• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্প হোগল পাতা এখন বিলুপ্তির পথে

রিয়াজ হোসেন, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ৫ জুলাই ২০২২

আপডেট: ১২:৫৭, ৫ জুলাই ২০২২

ফন্ট সাইজ
ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্প হোগল পাতা এখন বিলুপ্তির পথে

পটুয়াখালীতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া হোগলা পাতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক সময়ে প্রায় পরিবারের মানুষ হোগল পাতা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারিক জিনিস পত্র তৈরি করতো। সেগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করাসহ কেউ কেউ বিক্রি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন সেই হোগল পাতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

 ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্প হোগল পাতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগে নদী-নালা, খাল-বিলের পাশে দেখা যেত হোগল পাতা, বাতাস আসলেই যেনো হেলে পরতো একটা আর একটার উপরে। সেই সব দৃশ্যে দেখতেও ভালো লাগতো। এখন আর সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়ে না। আগেকার দিনের মানুষ হোগল পাতার চাটাই বিছানার নিচে ব্যবহার করতো, চাটাইয়ে করে ধান শুকাতো, নামাজ পড়ার পাটি, বাতাস করার পাখা, হাঁড়ি পাতিলে খাবার ঝুলিয়ে রাখার শিকাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতো। এ কারণে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে হোগল পাতা দিয়ে এই সব জিনিস বোনার প্রচলন ছিল। এক প্রকার বেশ কদর ছিল হোগল পাতার। 

কৃষকরা বলেন, এক যুগ আগেও গ্রামের প্রত্যেকের ঘরেই হোগল পাতার কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে মানুষ। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে মক্তব, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতো হোগল পাতার তৈরি চাটাই (পাটি)। বিশেষ করে, গ্রামের সকল পেশার মানুষ খাওয়া, নামাজ ও ঘুমানোর কাজে এর ব্যবহার করতো বেশি। বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় তীব্র গরমে মানুষের হোগলা পাতার হাতপাখা ছিল নিত্য দিনের সঙ্গী। পাতার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন সে স্থানটি দখল করে নিয়েছে প্লাষ্টিকের তৈরি মাদুর ও পাখা। 

গলাচিপা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার বলেন, হোগল পাতা প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় জন্মে। এটাকে বাণিজ্যিকভাবে কেউ আবাদ করে না। এখন পদ্মা সেতু চালু হয়েছে তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এই হোগোলপাতাকে সম্ভাবনাময় একটি শিল্প হিসেবেও বেছে নিতে পারে। গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মেয়েরা চাটাই বুনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারে। 

কৃষি অফিসার আরজু আক্তার আরও জানান, এটিকে ট্রেনিং এর মাধ্যমে চাষের আওতায় আনা হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

বিভি/এএন

মন্তব্য করুন: