• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে ট্রাইব্যুনালে চিঠি দিলেন শেখ হাসিনার বিদেশি আইনজীবী

প্রকাশিত: ১০:৩৯, ২ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১০:৪০, ২ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে ট্রাইব্যুনালে চিঠি দিলেন শেখ হাসিনার বিদেশি আইনজীবী

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা তার বিদেশি আইনজীবীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম কিংসলি ন্যাপলি গত সোমবার (৩০ মার্চ) চিঠিটি পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাত আইনজীবীর মাধ্যমে এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, শেখ হাসিনা বিদেশি আইনজীবীর মাধ্যমে এই প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিচার করা হয়েছে, তাতে ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায্য বিচারের মৌলিক মানদণ্ড’ লঙ্ঘন হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই বিচার প্রক্রিয়া এবং রায়কে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি না পেলেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পক্ষে লেখা চিঠিতে ট্রাইবুনালকে বিতর্কিত করা বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা অফিসিয়ালি চিঠিটা পেলে আমাদের মতামত জানাবো।’

এদিকে বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরণের চিঠির কার্যকারিতা কতটা, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘সঠিক বিচার হয়নি, বিচার প্রক্রিয়ায় সমস্যা রয়েছে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে মনে করলে এমন চিঠি যে কেউ পাঠাতেই পারেন। কিন্তু বিচার নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে হলে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই করতে হবে। এক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে পলাতক থাকা অবস্থায় আপিলের কোনো সুযোগ নেই।’

চিঠিতে যা বলা হয়েছে
শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনাল বরাবর লন্ডনের আইনি প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলির পাঠানো এই চিঠি ১০ পৃষ্ঠার। চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি’ বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বলছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থি।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায্য বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া প্রসিকিউশন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিকে আইসিটির আওতায় নেওয়ার বিষয়কে আইনের ‘ভূতাপেক্ষ প্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচার হওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করে ল’ ফার্মটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বিচার বাতিল ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। ট্রাইবুনালকে ১৪ দিনের মধ্যে এই চিঠির জবাব দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে ব্রিটিশ ল’ ফার্মটি।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: