ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর আদাবর থানায় করা অস্ত্র মামলায় এই দণ্ড দেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারী সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব। ওই সময় মাদক কারবারী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল বলে জানান। বাহিনীটি জানতে পারে, তিনি আদাবর থানায় চুরির মামলার এক নম্বর আসামি। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে র্যাব চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে, যা ফয়সাল দেখান। অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি তা দিতে পারেননি।
এই ঘটনায় র্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান ৮ নভেম্বর আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ফয়সাল এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ ও মাদক হোতা। দীর্ঘদিন ধরে সে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ফয়সাল ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। পরে জামিন বাতিল হয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নাম আসে।
তদন্ত শেষে ৬ জানুয়ারি ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: