• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

৩য় শ্রেণির শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা গ্রেফতার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ১৭ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৬:২৯, ১৭ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৩য় শ্রেণির শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিশু কন্যা-(১০)’কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুকন্যাটি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে। শিশু শিক্ষার্থীর উপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করেছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। তিনি ভেড়ামারা পৌর ০৮নং ওয়ার্ড কুঠিবাজার এলাকার জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা তত্ত্বাবধায়ক।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় একটি মসজিদে এতেকাফরত অবস্থা থেকে মাদ্রাসা সুপার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমানকে আটক করে পুলিশ।

শিশুর পরিবার ও ভেড়ামারা থানা সূত্রে জানা গেছে, ‘৮ মাস পূর্বে নির্যাতনের শিকার শিশুটি জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতো। ভাড়ায় চালিত দ্বি-তল ভবনের ২য় তলায় মাদ্রাসা এবং নীচ তলায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান পরিবারসহ বসবাস করতেন।

মুঠোফেনে আলাপকালে শিশুটির মা জানায়, ‘মাদ্রাসায় পুরুষ শিক্ষক হিসেবে একমাত্র সুপার একাই থাকতেন। গত রোববার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় শিশুকে মা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন। এ সময় সুপারের স্ত্রী শিশুর জ্বর এসেছে বলে তার আমাকে জানায়। একথা শুনে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যায়। সেখানে চিকিৎসক দেখার পর পরিস্থিতি খুব খারাপ হওয়ায় দ্রুত মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। আমরা এ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে আসি একটা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে। রাজশাহীর চিকিৎসক আমার মেয়েকে আইসিইউ তে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছেন’।

মা’য়ের অভিযোগ, ‘আমার মেয়েকে যখন ভর্তি করি ওই সময় মাদ্রাসায় ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও এখন সেখানে ৬/৭ জন আছে। শিক্ষক নামের ওই পাষণ্ড আমার নিষ্পাপ শিশু বাচ্চাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’।

শিশুটির বাবা জানায়, অনেক আশা ভরসা করে মেয়েকে কোরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। কিন্তু জানোয়ারের বাচ্চা কি সর্বনাশটা করল? আমি এর বিচার চাই। মাদ্রাসা শিক্ষকের এই জঘন্য কাজকে একজন নারী হিসেবে তার স্ত্রী কিভাবে গোপন করে রাখে? আমি তারও বিচার চাই’।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মিজানুর রহমান জানান, ‘গত রোববার সকাল ১০টার দিকে শিশুটি (১০) (৩য় শ্রেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী)কে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে। প্রথমে পা তুলে হাটতে পারছে না এমন অসুবিধার কথা জানায় পরিবার। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষায় জানতে পারেন যে শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়েছে। এসময় শিশুটি অচেতন অবস্থায় ছিলো। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটিকে ওয়ান ষ্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে’।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ ডা: আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুঠোফোনে জানান শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান, গত রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওয়ান ষ্টফ সার্ভিসের মাধ্যমে সংবাদ পায় যে পৌর এলাকার একটি মাদ্রাসার এক শিশু ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এঘটনায় ভিকটিমের মা বাদি হয়ে মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ অপর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ধর্ষণ অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার এজাহার নামীয় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত