রাজধানীতে সন্তানকে হত্যার পর মায়ের ‘আত্মহত্যা’
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় নার্গিস বেগম (৩৭) নামে এক মা তার পাঁচ বছরের সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী সিএনজি চালক সবুকে (৪০) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে তিলপাপাড়ার ২ নম্বর গলির পান্না বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি বাসা থেকে নার্গিস বেগম ও তার ছেলে মাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের অভাব, দাম্পত্য কলহ ও মানসিক হতাশার কারণে নার্গিস এমন নির্মম কাজ করেছেন।
পুলিশ জানায়, তিন সন্তানসহ ঢাকায় সংসার চালানো, ঘরভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও সন্তানদের স্কুলের বেতন– সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন তারা। এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। ঘটনার দিন সকালে সবু সিএনজি নিয়ে মুন্সীগঞ্জে যান। ওই সময় কোনো ঝগড়ার খবর পাওয়া না গেলেও দীর্ঘদিনের চাপা হতাশা থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই সবুকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার সময় অন্য দুই সন্তান বাসায় ছিল না, তারা নামাজে গিয়েছিল। সেই সুযোগে দরজা বন্ধ করে নার্গিস তার শিশুপুত্রকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবারটি খিলগাঁও এলাকায় এক কক্ষের একটি ঝুপড়ি-ধাঁচের বাসায় বসবাস করত। স্বামীর আয় অনিয়মিত হওয়ায় প্রায়ই বাসাভাড়া বকেয়া থাকত। নিয়মিত বাজার করা বা সন্তানের স্কুলের ফি দেওয়া সম্ভব হতো না। এসব কারণে নার্গিস স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং চরম হতাশায় ভুগছিলেন। সবুকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নার্গিস সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সবুর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: