ছেলের কাছে পাওনা টাকার জন্য মা’কে তুলে নিয়ে জিম্মি, অতঃপর...
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ইটভাটায় কাজ করার শর্তে ছেলে জগদীশ দাদন (অগ্রিম অর্থ) নেওয়ার পর তাকে নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় মা দিপালী রানী আউলিয়া (৪৫)কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দুই দিন জিম্মি করে রাখার পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার তার স্বজনদের কাছে ফেরত দিয়েছেন শ্যামনগর থানা পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার জেলেখালী গ্রামের ত্রিপানী বিদ্যাপীঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে ইটভাটা শ্রমিকদের সর্দার আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩/৪ জন ব্যক্তি তাকে উঠিয়ে নিয়ে বরিশালে একটি ভাটায় জিম্মি করে রাখার অভিযোগ করেন দিপালীর স্বজনরা।
ইট ভাটা শ্রমিক সর্দার আমজাদ হোসেন উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাঠি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে। এদিকে, দিপালী রানী আউলিয়া উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গ্রামের পঞ্চানন মন্ডলের স্ত্রী।
দিপালীর মেয়ে একাদশী মন্ডল জানান, তার ভাই জগদীশ ইট ভাটায় যাওয়ার জন্য আমজাদ হোসেনের নিকট থেকে টাকা নিয়েছিল। তবে বুধবার সে অপর একজনের ইট ভাটায় চলে যাওয়ার খবরে আমজাদ তার লোকজন নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে এসে তার মা'কে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, তার মা বিকালে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়। বাড়িতে ফেরার পথে রাস্তা থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে আমজাদ ও তার লোকজন। শুক্রবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত পরিবারের কেউ তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।
দিপালীর ভাইপো পরেশ আউলিয়া জানান, জগদীশ ভাটায় যাওয়ার জন্য আমজাদের কাছ অগ্রিম অর্থ নিয়েছেন। এর আগেও একই ধরনের কাজ করায় পরিবারকে না জানিয়ে তার কাছে টাকা দিতে সবাইকে নিষেধ করা হয়। তারপরও ছেলের অপরাধের জন্য আমজাদ লোকজন নিয়ে এসে তার পিসিকে তুলে নিয়ে গেছে।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতেই তারা শ্যামনগর থানা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিন টার দিকে তার পিসিকে উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি এসময় একজন নারীকে এভাবে তুলে নিয়ে মানসিক ও শারিরীকভাবে চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমজাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনের দাবি জগদীশ টাকা নিয়ে পালানোর কারণে দিপালীর পরামর্শে তাকে নিয়ে বরিশালের হিজলা এলাকায় রাখা হয়েছিল।
শ্যামনগর থানার এস.আই আনোয়ার হোসেন দিপালী রানী স্বেচ্ছায় ইটভাটায় গেছেন বলে দাবি করে জানান, শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটেয়ারীর মৌাখিক আদেশে তিনি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ভাটা সর্দার আমাজাদ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন এবং তাকে থানায় আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: