• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শ্রেণি কক্ষে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি  

প্রকাশিত: ১০:০৫, ১৪ মে ২০২২

আপডেট: ১২:২৯, ১৪ মে ২০২২

ফন্ট সাইজ
শ্রেণি কক্ষে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে

মো. বেলায়েত হোসেন

শ্রেণী কক্ষে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। পিতৃহীন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা শুক্রবার (১৩ মে) খাগড়াছড়ির রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মো. বেলায়েত হোসেন (৪২) থানাচন্দ্র পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। তিনি একই উপজেলার লামকুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরূল হুদার ছেলে।

অভিযোগে জানা গেছে, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর বৃহস্পতিবার (১২ মে) স্কুল খোলার দিন পঞ্চম শ্রেণির মাত্র দুইজন ছাত্রী স্কলে আসে। বেলা ১টায় স্কুল ছুটির পর অন্যান্য ক্লাসের সব ছাত্র-ছাত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে হোমওয়ার্কের কথা বলে শ্রেণি কক্ষে রেখে দেন সহকারি শিক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন। ওই সময় স্কুলের অপর সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান স্কুল অফিসকক্ষে কাজ করছিলেন। 

এর আগে ছুটির পর প্রধান শিক্ষক ও অপর এক সহকারি শিক্ষক বাড়ি  চলে যান। সে সুযোগে সহকারি শিক্ষক বেলায়েত হোসেন ওই ছাত্রীদের শ্রেণীকক্ষে ডেকে এনে একজনকে প্রথম বেঞ্চে এবং অপরজনকে পিছনের বেঞ্চে বসিয়ে হাতের লেখা লিখতে বলেন। এসময় শিক্ষক বেলায়েত পিছনের বেঞ্চে বসা ছাত্রীর পাশে বসে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে নিপীড়ন করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে স্কুলের বাহিরে এনে একশ টাকার একটি নোট দিয়ে কাউকে কিছু না বলার কথা বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। 

বাড়ি ফিরে ওই ছাত্রী তার মায়ের কাছে শিক্ষকের নিপীড়নের সব কিছু বলে দেয়। পরে তার মা এলাকার কারবারি ও ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নেতৃবৃন্দকে জানান। 

রামগড় উপজেলা ত্রিপুরা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও রামগড় পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শ্যামল ত্রিপুরা জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক বিষয়টি তাদের সংগঠনকে জানায়। 

সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহায়তায় শুক্রবার(১৩ মে) ভুক্তভোগী ছাত্রীকে সাথে নিয়ে  তার মা  ফুলবালা ত্রিপুরা রামগড় থানায় শিক্ষক বেলায়েতে হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী দেবী জানান, স্কুল ছুটির পর বাসায় এলে সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। 

এদিকে, ছাত্রী নিপীড়নের এ ঘটনা ওই এলাকার বাসিন্দারদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে কোন ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পাঠাবে না বলে জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। 

রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ শামছ্জুামান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ভিকটিমের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ব্যাপারে মামলা হয়েছে।

বিভি/এইচএম/এইচএস

মন্তব্য করুন: