শহীদ মিনার এলাকায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিব হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. গোলাম রসুল শিহাব (২১), মো. রাফিন শেখ (২০), শাহারিয়ার নাজিম জয় (২০), মো. সাগর ফকির (২৬) ও মো. সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা (৩৮)।
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে রাকিবুল ইসলাম তার মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন যুবক তার ওপর হামলা চালায়।
তারা পিস্তল দিয়ে পেছন থেকে একাধিক গুলি করে। এরপর রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে লুটিয়ে পড়লে অজ্ঞাতরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় পথচারীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনগণের সহায়তায় মো. গোলাম রসুল শিহাবকে গ্রেফতার করে।
তার দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর আনুমানিক দুটায় খুলনা জেলার লবনচরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রাফিন শেখকে, একই দিনে সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটায় খুলনা জেলার লবনচরা থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহারিয়ার নাজিম জয়কে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাগর ফকিরকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৮ মার্চ) রাত আনুমানিক ৩টায় সিটিটিসির একটি টিম গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তার হেফাজত হতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা খুলনা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনি কাজ করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: