• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

১৩২০ বিঘা জমি দখলের নেতৃত্বদানকারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৩১, ২৮ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
১৩২০ বিঘা জমি দখলের নেতৃত্বদানকারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার

সাতক্ষীরার দেবহাটার খলিশাখালীর ১৩২০ বিঘা মৎস্য ঘেরের রেকর্ডিয় জমি জবর দখলের নেতৃত্বদানকারী ভুমিহীন নামধারী সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইসমাইল গাজীকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে সোমবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের ৮’শ বিঘা মৎস্যঘের এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইসমাইল গাজী দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ও নোড়ারচক গ্রামের মৃত আকরাম গাজীর পুত্র। 

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, খলিশাখালীর ১৩২০ বিঘা জমি  দখলের নেতৃত্বদানকারী ও একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইসমাইল গাজীসহ তার কয়েকজন সহযোগী নোয়াপাড়া গ্রামের মৎস্যঘেরর ৮’শ বিঘা নামকস্থানে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে সন্ত্রাসী ইসমাইলকে গ্রেফতার করা গেলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। 

ওসি আরো জানান,  ইসমাইল গাজীর রিুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা করে আসামি ছিনতাই, চাঁদার দাবিতে মারপিট, অবৈধ অস্ত্র ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার ওয়ারেন্টও রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নোড়ারচকের সন্ত্রাসী ইসমাইল মেম্বার, আকরাম ডাকাত, কালু ডাকাত, গফুর ডাকাত, আনারুল, রবিউল, আসাদুল, আবুল ও সুনিল স্বর্ণকারের নেতৃত্বে ভূমি সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলি ও বোমাবর্ষন করে দেবহাটার খলিশাখালি নামক স্থানের তিনশ জনের রেকর্ডীয় মালিকের ১৩২০ বিঘা জমি জবরদখল ও মৎস্য ঘের লুট করে নেয়। এ সময় মৎস্য ঘেরের প্রায় ৪ কোটি টাকার মাছ লুট করে। এরপর থেকে ওই জনপদকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দাগী অপরাধীদের নিয়ে অস্ত্র, মাদক ব্যবসার আঁখড়া গড়ে তোলে তারা। 

সম্প্রতি প্রশাসনের সহযোগিতায় জবরদখলকৃত জমি ও মৎস্য ঘের পূনরাদ্ধারের পর একের পর এক অভিযানে ইসমাইল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ও ডাকাতরা দফায় দফায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলেও আত্মগোপনে চলে যায় এসব সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু বাহিনীর প্রধান ইসমাইল। কাঠমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি বনে যায় ইসমাইল স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে একসময় সে ঢুকে পড়ে উপজেলা যুবলীগে। 

এরপর যুবলীগের সাইনবোর্ড লাগিয়ে খলিশাখালি জনপদ জবরদখলে নিয়ে ওই জনপদকে অপরাধের অভয়াশ্রম গড়ে তুলে সেখানে রামরাজত্ব কায়েম করে আসছিল সেসহ তার বাহিনীর সদস্যরা। একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ থাকায় ইতিমধ্যে ইসমাইলকে যুবলীগের ত্রাণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কারও করেছেন উপজেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে, তার গ্রেফতারের খবরে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। 

বিভি/এজে/এজেড

মন্তব্য করুন: