• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় পে স্কেল-২০২৬: যেসব ভাতার হার কমলো

প্রকাশিত: ১৮:২২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জাতীয় পে স্কেল-২০২৬: যেসব ভাতার হার কমলো

সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এতে মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি, ভাতা ও ইনক্রিমেন্টের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও কয়েকটি ভাতার হার কমানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় এসব ভাতার প্রকৃত টাকার পরিমাণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে।

কমছে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার
নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতা দেওয়ার শতাংশে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের জন্য বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

অর্থাৎ বাড়ি ভাতার শতাংশ কমলেও মূল বেতন বাড়ার কারণে প্রকৃত টাকার হিসাবে অনেকের বাড়ি ভাতা আগের তুলনায় বাড়তে পারে।

কমছে বাংলা নববর্ষ ভাতাও
বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল থাকছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া হাওর, দ্বীপ ও চর ভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

উচ্চ গ্রেডে কমছে ইনক্রিমেন্ট
নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান।

নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও অন্যান্য ভাতা সংক্রান্ত নতুন হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: