• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া, সুখবর দিলেন শ্রমমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৫০, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া, সুখবর দিলেন শ্রমমন্ত্রী

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মালয়েশিয়া।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তবে এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই শ্রমিকদের দিয়েই বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাত থেকে শ্রমিকের চাহিদা এলে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে।

দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু বিদেশে শ্রমিক পাঠানো সরকারের লক্ষ্য নয়; নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে কর্মস্থলে গিয়ে তাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। এ কারণে মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা কী ধরনের কর্মী চান, সেটি আগে নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিক প্রস্তুত করার পর মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে সরাসরি কর্মী বাছাই করবেন। নির্বাচিত শ্রমিকদের পরবর্তী ধাপে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

এ প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের পাশাপাশি অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।

শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান শ্রমমন্ত্রী। চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প খাতে জনবলের চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের আয়োজন করে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শ্রমমন্ত্রী আরও জানান, চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: