• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

চাকরি ও রিজিকের জন্য মুসা (আ.) যে দোয়া পড়েছিলেন

প্রকাশিত: ১২:১৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চাকরি ও রিজিকের জন্য মুসা (আ.) যে দোয়া পড়েছিলেন

ছবি: সংগৃহীত

যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। চাকরির চেষ্টা করতে গিয়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায় হজরত মুসা (আ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা থেকে।

মিসর ছেড়ে মাদইয়ানে পৌঁছানোর পর একসময় চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন হজরত মুসা (আ.)। তখন তিনি একটি ছায়াময় স্থানে আশ্রয় নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর সেই দোয়া এভাবে এসেছে
رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস, আয়াত ২৪)
এই দোয়ায় হজরত মুসা (আ.) নির্দিষ্ট কোনো বস্তু বা পার্থিব সুবিধা দাবি করেননি। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা যেকোনো কল্যাণের প্রতি নিজের প্রয়োজন ও নির্ভরতার কথা তুলে ধরেছেন।

এরপর তাঁর জীবনে আসে পরিবর্তন। তিনি আশ্রয় ও কাজের সুযোগ পান। পবিত্র কোরআনে মাদইয়ানের ওই ঘটনার পর তাঁর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করুন। নিশ্চয়ই আপনার নিয়োগকৃতদের মধ্যে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’(সুরা কাসাস, আয়াত ২৬)

অন্যদিকে সুরা তালাকের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’

রিজিকের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি কর্মতৎপরতার গুরুত্বও হাদিসে এসেছে। তিরমিজি শরিফের ২৩৪৪ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পাখির উদাহরণ দিয়ে তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দিয়েছেন। তারা সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে।
অর্থাৎ শুধু দোয়া করে বসে থাকা নয়, জীবিকার জন্য বৈধ উপায়ে চেষ্টা করাও জরুরি। চাকরিপ্রত্যাশীদের তাই নিয়মিত দক্ষতা বাড়ানো,

চাকরির জন্য আবেদন করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। একই সঙ্গে উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। ঘুষ, প্রতারণা ও অন্যায় উপায়ে উপার্জন থেকে বিরত থেকে হালাল রিজিকের সন্ধান করাই  একজন মুমিনের দায়িত্ব।

চাকরি পেতে দেরি হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়। চেষ্টা, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা, এই তিনটি বিষয়কে সঙ্গে রেখে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাই পাওয়া যায় হজরত মুসা (আ.)-এর এই ঘটনা থেকে।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন: