• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

সন্ধান মিলেছে সেই স্থানের, যেখানে প্রতিদিন ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা

প্রকাশিত: ১৩:৩৮, ৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৩৮, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সন্ধান মিলেছে সেই স্থানের, যেখানে প্রতিদিন ইবাদত করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা

ছবি: সংগৃহীত

আসমানের জগত নিয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে রয়েছে নানা বিস্ময়কর বর্ণনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো বায়তুল মামুর, সপ্তম আকাশে অবস্থিত সেই পবিত্র ঘর, যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে আল্লাহর ইবাদত করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, একবার যে ফেরেশতারা সেখানে ইবাদত করার সুযোগ পান, তারা আর সেখানে ফিরে আসেন না।

বায়তুল মামুর সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনাগুলোর একটি পাওয়া যায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মিরাজের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সহিহ হাদিসে।

সপ্তম আকাশে বায়তুল মামুর
মিরাজের রাতে মহানবী (সা.) সপ্তম আকাশে পৌঁছালে তাকে বায়তুল মামুর দেখানো হয়। তিনি হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি বায়তুল মামুর।

এরপর তিনি বলেন, প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা সেখানে প্রবেশ করেন। তারা সেখান থেকে বের হয়ে গেলে আর কখনো সেখানে ফিরে আসেন না। অর্থাৎ প্রতিদিন নতুন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে প্রবেশ করে ইবাদত করেন। এই বর্ণনাটি সহিহ বুখারির ৩২০৭ নম্বর হাদিসে এসেছে।

কোরআনেও এসেছে বায়তুল মামুরের উল্লেখ
পবিত্র কোরআনের সূরা আত-তূরে বায়তুল মামুরের শপথ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘শপথ বায়তুল মামুরের।’

‘বায়ত’ শব্দের অর্থ ঘর। আর ‘মামুর’ অর্থ আবাদ, পূর্ণ বা জনবহুল। অর্থাৎ বায়তুল মামুর এমন একটি ঘর, যেখানে ফেরেশতাদের নিয়মিত আগমন ঘটে এবং তারা সেখানে আল্লাহর ইবাদত করেন।

কাবার সঙ্গে কী সম্পর্ক?
মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায়, পৃথিবীতে মুসলমানরা যেমন পবিত্র কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ ও ইবাদত করেন, তেমনি আসমানের ফেরেশতারা বায়তুল মামুরকে কেন্দ্র করে ইবাদত করেন।

মিরাজের রাতে মহানবী (সা.) বায়তুল মামুরের কাছে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলেও সহিহ হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।
তবে কাবা শরিফের সঙ্গে বায়তুল মামুরের সুনির্দিষ্ট অবস্থানগত সম্পর্ক নিয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যেহেতু এটি অদৃশ্য জগতের বিষয়, তাই কোরআন ও সহিহ হাদিসে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, ততটুকুতেই বিশ্বাস সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অনুমাননির্ভর কোনো তথ্যকে নিশ্চিত ধর্মীয় তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

বায়তুল মামুরের এই বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টি জগতের বিশালতা এবং ফেরেশতাদের বিপুল সংখ্যার একটি বিস্ময়কর চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহর সৃষ্টি ও ক্ষমতার পরিধি মানুষের জ্ঞানের সীমার অনেক ঊর্ধ্বে।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত