ব্যাংকে হু হু করে বাড়ছে রেমিট্যান্স
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ বাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের ১৩দিনে এখন পর্যন্ত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ৯২ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ২০ পয়সা) টাকার অঙ্কে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭১ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকে এসেছে এক কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৯ মাসে (জুলাই-মার্চে) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৫২৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ২০ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ ৩১ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা)। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩০ কোটি বা প্রায় ১৮ শতাংশ কম। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৮৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে প্রবাসীরা ১৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। যা আগের মাসের চেয়ে ২৪ শতাংশ বা ৩৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে রেমিট্যান্স বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯১ কোটি ৯ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাতেন তিনি ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা।
বিভি/এইচএস



মন্তব্য করুন: