• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

রিজার্ভের হিসাব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএমএফের ভিন্ন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ৮ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৮:২৫, ৮ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
রিজার্ভের হিসাব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএমএফের ভিন্ন তথ্য

দেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাবে সেখান থেকে আরও ৮ বিলিয়ন ডলার বাদ যাবে। তাদের হিসাবে রিজার্ভ হবে ২ হাজার ৬০০ কোটি ( ২৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। 

এদিকে সোমবার রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর’২২ মেয়াদের ১৩৫ কোটি (১.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়। একইসঙ্গে আমদানি দায় মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। ফলে দিন শেষে রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৪০০ কোটি (৩৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তারা বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের যে তথ্য প্রকাশ করছে, তা থেকে প্রকৃত রিজার্ভ ৮ বিলিয়ন ডলার কম। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে সরকার আইএমএফের কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ চেয়েছে, তা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ইতোমধ্যে গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে রিজার্ভের হিসাবায়নে মোট রিজার্ভ ও প্রকৃত রিজার্ভকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার কথা বলা হয়। রিজার্ভ থেকে কোন কোন বিনিয়োগকে বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভ হিসাব করতে হবে, তা-ও আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে রিজার্ভের প্রকৃত হিসাব নিয়ে। আইএমএফ বলছে, ভুল শ্রেণিকরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের আকার বড় হয়েছে বলে দাবি করে আইএমএফ।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ বাংলাভিশনকে বলেন, ‘রিজার্ভ থেকে আকু বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আমদানি দায় মেটাতেও রিজার্ভ থেকে কিছু ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (শুক্রবার বাদে) দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার বাদে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যার আগের আগের মাসের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি। এছাড়ও রফতানি আয়ও ভালো দেখা যাচ্ছে। 

অন্যদিকে অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ (৪.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয় কম প্রায় ১৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরের মতো সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসেও রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমেছে। এ মাসে ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৫২ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত বছরের অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৯ লাখ (১.৬৪ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। এ হিসাবে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে এই অক্টোবরে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছে। আর সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম এসেছে ১ শতাংশের মতো।

১৩ মাস পর গত সেপ্টেম্বরে ঋণাত্মক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আয় করেন রপ্তানিকারকরা, যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে লক্ষ্যের চেয়ে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছরের আগস্টে এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক বছর আগে ৫ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল ৪৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

বিভি/এইচএস

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত