• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

১০ মাসে জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসানের পরিমাণ জানালো বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৮:১৭, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
১০ মাসে জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসানের পরিমাণ জানালো বিপিসি

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রি করে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি। বিপিসি দৈনিক প্রায় ৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। এই অংক প্রতি মাসে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিপিসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০-৭২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৮-৪৯ লাখ মেট্রিক টন। এখন প্রতিদিন গড়ে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড ভেঙেছে যার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ছে। ভর্তুকি কমাতে এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তারপও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরশন (বিপিসি) প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। এই অংক প্রতি মাসে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা।

বিপিসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুবিধাটি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি ডলারে ১০-১২ টাকার যে অবমূল্যায়ণ হয়েছে, এতে বিপিসির ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। যার কারণে এখনো লোকসানের মধ্যে আছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: 

 

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রায় এক বছর পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে তেল বিক্রি করা হয়। এতে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে, তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ণের কারণে তেল আমদানিতে খরচ বেশি পড়ছে। যার কারণে বিপিসি এখনো লোকসানের মধ্যেই আছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিপিসির লোকসানের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু আমরা এখনো লোকসানমুক্ত হতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন প্রতি লিটার ডিজেলে আমাদের লোকসান হচ্ছে ৪-৫ টাকা। যা গত দেড়-দুই মাস আগেও লিটারে ৮-১০ টাকা পর্যন্ত লোকসান ছিল। এখন বিপিসির প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন বিক্রিতে লোকসান নেই। গত আগস্ট মাসে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর থেকে ডিজেল বিক্রিতে এখনো লোকসান দিতে হচ্ছে।’

বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিপিসিকে যদি ব্রেক ইভেন পয়েন্টে রাখতে হয় তাহলে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত ডিজেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলারে আসতে হয়। এখনো প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত ডিজেলের দাম প্রায় ১০৮-১০৯ ডলার।’

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় এখন দেশেও দাম কমানোর দাবি তুলছেন অনেকেই। এই অবস্থায় যদি জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয় তাহলে বিপিসির লোকসান আরো বেড়ে যাবে। লোকসানে থাকা বিপিসি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে জানান বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ‘লোকসানে থাকা বিপিসিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে সামনে জ্বালানি বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠলে বিপিসির পক্ষে তখন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’

আরও পড়ুন: 

বিভি/এইচএস

মন্তব্য করুন: