• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সরকারের কাছে ৮ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
সরকারের কাছে ৮ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

সার, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ চার খাতে ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে নিজের গ্রাহকদের পাওনা ৮ হাজার কোটি টাকা আগাম চেয়েছে  ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ভর্তুকি পাওয়ার পর সমন্বয়ের শর্তে এ অর্থ চাওয়া হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আংশিক তহবিল জোগানে সম্মত হয়েছে। এতে ইসলামী ব্যাংক কেবল রেমিট্যান্স ও সিএমএসএমই খাতে ভর্তুকির ৪৮৩ কোটি টাকা আগাম নিতে পারবে।

জানা গেছে, বিশেষ বিবেচনায় তারল্য সুবিধার অনুরোধ জানিয়ে গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি লেখেন ইসলামী ব্যাংকের এমডি। চিঠিতে বলা হয়, দেশে বিরাজমান মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমায় ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাহিদা বেড়েছে। আবার মানুষের হাতে নগদ টাকা ধরে রাখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ব্যাংক খাতে নগদ প্রবাহে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকের নগদ টাকার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিধিবদ্ধ তারল্য সঞ্চিতি সংরক্ষণে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তারপরও দেশের সবচেয়ে বড় আমানতের ব্যাংক হওয়ায় গ্রাহকের নগদ উত্তোলন চাহিদা পূরণে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শরিয়াহ ব্যাংক হওয়ায় পদ্ধতিগত কারণে ইসলামী ব্যাংক যে কোনো মাধ্যম থেকে নগদ অর্থ নিতে পারে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজন।

চিঠিতে কোন খাতে কী পরিমাণ ভর্তুকির টাকা পাওনা রয়েছে, তা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২২ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রের আলোকে ব্যাংকটি ৭১ কোটি ২১ লাখ ডলারের ৪৫টি এলসি খুলেছে। এর বিপরীতে গ্রাহক ভর্তুকি বাবদ ৭ হাজার ৭৪ কোটি টাকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। গ্রাহক টাকা পেলে তাদের এখানে সমন্বয় হবে। একইভাবে ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা ৪০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। করোনা সংকট মোকাবিলায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় ব্যাংকটি পাবে ১৪৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া রেমিট্যান্সের বিপরীতে ভর্তুকির ৩৩৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পাবে ব্যাংকটি।

নিয়ম অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করে ব্যাংক। আর আর্থিক প্রণোদনার আওতায় সরকারি সুদ ভর্তুকির টাকা প্রথমে ব্যাংক বহন করে। ব্যাংকগুলো আবেদন করার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে সরকার থেকে এ অর্থ পায়। এ জন্য বেশ সময় লাগে। সরকার ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ভর্তুকির টাকা আগাম চাওয়া হলেও দেওয়ার প্রক্রিয়া বেশ জটিল। যে কারণে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে শুধু রেমিট্যান্স এবং সিএমএসএমই খাতে ভর্তুকির টাকা আগাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

বিভি/এইচএস

মন্তব্য করুন: