প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আজ, চাকরিপ্রার্থী প্রায় ১১ লাখ
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের বাকি ৬১ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে এই বিশালসংখ্যক আবেদন পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে ২ জানুয়ারির নির্ধারিত পরীক্ষা পিছিয়ে আজ (৯ জানুয়ারি) নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সময়ও সকাল থেকে পরিবর্তন করে বিকালে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। শুক্রবার দুপুর ২টার মধ্যে প্রার্থীকে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। দুপুর আড়াইটায় পরীক্ষা কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর পরীক্ষার হলে দুটি ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবেন না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না। বই, নোট, কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স, হাতঘড়ি বা ঘড়িজাতীয় বস্তু, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং যোগাযোগযন্ত্র সঙ্গে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষা কক্ষে অবস্থানকালে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান খোলা রাখতে হবে। আবেদনপত্রের ছবির সঙ্গে হাজিরা শিটের ছবি মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবেন ইনভিজিলেটর। উত্তরপত্রে শুধু কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
ডিপিই জানায়, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য ওএমআর ফরমের সেট কোড পূর্বনির্ধারিত থাকবে, যা প্রবেশপত্রে উল্লেখ আছে। পরীক্ষার হলে দেওয়া ওএমআর ফরমে নির্ধারিত স্থানে প্রবেশপত্র অনুযায়ী সেট কোড বৃত্ত পূরণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রের সেট কোড ও ওএমআর ফরমের সেট কোড আলাদা হবে। পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে কেন্দ্র পরিদর্শক জানিয়ে দেবেন, কোন ওএমআর সেট কোডের বিপরীতে কোন সেট কোডের প্রশ্নপত্র পাওয়া যাবে। নির্ধারিত ওএমআর সেট কোড ছাড়া অন্য কোনো কোডে পরীক্ষা দিলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হতে সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রমের সব ধাপ– রোল নম্বর প্রস্তুত, আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও পরিবহন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রস্তুত; স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। ফলে প্রশ্নফাঁস বা অবৈধ হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। প্রথম ধাপে– ছয় বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। এবং দ্বিতীয় ধাপে– ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী আজকের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
বিভি/এআই




মন্তব্য করুন: