• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জানালার গ্রীলে ঝুলছিল মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়ার মরদেহ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জানালার গ্রীলে ঝুলছিল মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়ার মরদেহ

নিহত শিক্ষার্থী সামিয়া নিঝুম

কুষ্টিয়ায় সামিয়া নিঝুম নামে ৪র্থ বর্ষের মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় হাউজিং ই-ব্লক এলাকার ৭ তলা ভবনের ৪ তলার একটি রুমের জানালার গ্রীলের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন মডেল থানা পুলিশ। 

শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ বিষয়টি অবশ্যই রহস্যজনক বলে দাবি করেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ।

নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর থানাধীন ছোট শালিখা এলাকার মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পাশে ওই বাসায় একটি রুম সাবলেট নিয়ে থাকতেন তিনি।

ঘটনাস্থল ওই বাড়ির কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রবিবার রাতে নিঝুমের বাবা আমাকে কল দিয়ে বলেন আঙ্কেল আমার মেয়ে ফোন ধরছে না, একটু দেখেন তো রুমে থাকলে ডেকে দেন। আমি তখন এসে নিঝুমের পাশের রুমের এক মেয়েকে সাথে নিয়ে তার রুমে গিয়ে ডাকতে থাকি এবং বলি যে তোমার বাবা ফোন দিয়েছে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এসময় চিৎকার করে ডেকেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই মেয়ের বাবাকে ফোন কলে জানায়। একথা শুনে নিঝুমের বাবা দরজা ভেঙে দেখতে বলেন। পরে অন্য মেয়েরা ৯৯৯-এ কল করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পিতা আব্দুস সালাম বলেন, মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির পর থেকেই মেসে থাকতো। সেখানে পড়ালেখার সমস্যা হওয়ায় গত ২৩ জানুয়ারী মেয়েকে এই বাসায় প্রয়োজনীয় সবকিছু ঠিকঠাক করে উঠিয়ে দিয়ে যাই। গতকাল সন্ধ্যায় মেয়ের সাথে আমার শেষ কথা হয়। রবিবার পরীক্ষা থাকায় সারাদিন কোন কথা হয়নি বলেই সন্ধ্যার পরে ফোন কল করি কিন্তু ফোন কল আর রিসিভ করে না। পরে এই বাড়ির লোককে ফোন দিলে মেয়ের এই ঘটনা জানতে পারি।

ওই ভবনের ৪র্থ তলায় রুম নিয়ে থাকা মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা নানা এসে আমাদেরকে নিঝুম আপুর খোঁজ নেওয়ার জন্য বলেন। এসময় আমরা নানাসহ নিঝুম আপুর রুমে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। পরে দরজার কিছুটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত দেখে পুলিশে খবর দিই। নিঝুম আপু গত জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখের দিকে আমার পাশের ওই রুম সাবলেট নিয়ে থাকতেন।

নিহতের কয়েকজন সহপাঠীর সাথে আলাপকালে তারা জানায়, ‘রোববার আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা ছিল। নিঝুম অন্যান্য দিনের মতো সকালে ক্লাস-পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। আমাদের সাথে যতক্ষণ ছিল ততক্ষন সুস্থ্য স্বাভাবিকই ছিল। তার আচরণ বা কথাবার্তায় কোন প্রকার অসংলগ্ন বা অস্বাভাবিক লক্ষ করা যায়নি। হঠাৎ কি এমন ঘটলো যে বেদনাদায়ক কিছু ঘটে যাবে আমরা বুঝতে পারছি না’।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, ‘মেয়েটা পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। সে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আর মাত্র একটা বছর পরই তার ডাক্তার হয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা। তবে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না যে, আমাদের ২য় বর্ষের পর প্রত্যেকটা মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য মেডিকেল ক্যাম্পাসেই আবাসিক সীটের সক্ষমতা রয়েছে। তবুও কেনো যে এরা মেসে বাসায় থাকে! আমি ওর রবিবারের কোর্স টিচারের সাথে কথা বলেছি; উনাদের চোখেও কোন অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি। তাহলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারনটা পরিস্কার হওয়া জরুরী। কিন্তু ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অনাপত্তি আবেদন করার ফলে পোর্ষ্ট মর্টেম ছাড়াই লাশ হস্তান্তর হওয়ায় ঘটনার রহস্য উন্মোচনের সর্বশেষ সম্ভাবনাটুকুও আর রইলো না’।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান,‘রবিবার রাতে এক মেডিকেল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশের সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। তবে সোমবার দুপুরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অনাপত্তি দরখাস্ত দাখিল করায় লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়। এবিষয়ে থানায় একটা ইউডি মামলা হয়েছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: