• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসিতে শতভাগ ফেল: নাটোরে ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:০২, ১১ আগস্ট ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এসএসসিতে শতভাগ ফেল: নাটোরে ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

প্রতীকী ছবি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ ফলাফলে নাটোর জেলায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে অংশ নেওয়া সকল পরিক্ষার্থী শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে হতাশার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও  শিক্ষাবিদরা।

জেলা শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার মোহরকয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বিলমাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা নন এমপিও মাদ্রাসা দুটি থেকে মোট ৫জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। বাগাতিপাড়া থেকে এমপিও ভ‚ক্ত প্রতিষ্ঠান চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নন এমপিও প্রতিষ্ঠান তমালতলা টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ ও বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজ থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়ে কেউ পাস করেনি। 

পাস না করা আরো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলার এমপিও ভুক্ত কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা ও নন এমপিও প্রতিষ্ঠান কুমরুল দাখিল মাদ্রাসা ও আটুয়া কে এস দাখিল মাদ্রাসার ৪৩ জন পরিক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি। সিংড়া থেকে  দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলম কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ ও বাহাদুর পুর দাখিল মাদ্রাসার ৫১ জন পরীক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। 

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুবিধ কুমার মৈত্র বলেন, শতভাগ ফেলের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা জরুরি। মোবাইল ফোনের আসক্তি শিক্ষার্থীদের দিন দিন পড়া লেখা  থেকে দুরে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সচেতন না হলে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরো ভয়াভহ অবস্থার সম্মুখিন হতে হবে। 

বড়াইগ্রাম উপজেলার অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে আরো দায়িত্ব শীল হতে হবে শিক্ষকদের। তা না হলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়া লেখায় বেশি দুর এগোতে পারবেনা। এমপিও ভুক্ত কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা থেকে কেউ পাস করতে পারেনি। এটা দুঃখজনক। 

কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার আহমাদুল্লাহ বলেন, ১৯৯৩ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হয়। তারপর থেকে এযাবৎ পর্যন্ত এমন ফলাফল বিপর্যয় আর কোন বছর হয়নি। গত বছরও ১৯জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ১২জন পাস করেছেন। এমন ফলাফলে আমরা হতাশ হয়েছি। শোকজ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।  

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী বলেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধানদের কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। ৫ কর্মদিবষের মধ্যে তারা প্রবিতেদন জমা দিবেন। পরে কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। সাথে সাথে নির্বাচনী পরিক্ষার  প্রতিটি  খাতা যাচাই করা হবে। তাতে আশানুরুপ ফলাফল না পেলে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদেরও শোকজ করা হবে।  

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জেলায় এমপিুভ‚ক্ত ও নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল এন্ড কলেজ ২৮৭টি, দাখিল মাদ্রাসা ৭৮টি ও কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ ৬১টি  প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২১ হাজার ৬৬০ জন পরিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয় ১১ হাজার ৬১৯জন শিক্ষার্থী।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত