চুয়েটে আওয়ামী ভিসিকে ফেরাতে আন্দোলন করছে পতিত সরকারের সমর্থক এবং শিবির
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে।
শরীফুল আলমের প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে দাবিতে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সাথে শাটডাউন ঘোষণা দেয় তারা। মূলত সরকারকে ব্রিবত করতে এই আন্দোলনের নেপথ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন পতিত সরকারের সমর্থক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিবির নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সদ্যসাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিলেন। তখন তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আইডিতে পোস্ট করতেন। অঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ফেসবুক থেকে সেসব ছবি ও ভিডিও সড়িয়ে ফেলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেল্ফি তোলেন। ১৯ মার্চ ২০২১ সালে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন।

বুকের ওপর শোক দিবসের কালো ব্যাজ পড়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন করে গ্রুপ ছবি তোলেন।

২০২১ সালের জুন মাসে মুজিববর্ষের মহামিলনে স্বাগত জানিয়ে টানানো ফেস্টুনের সামনে দাড়িয়ে ছবি তোলেন। সেটিও ফেসবুকে আপ করেন। সেখানে লেখা আছে- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনায় এগিয়ে চলছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

শেখ মুজিবুর রহমানের মুড়ালের সামনে সেল্ফি তুলে আনন্দিত হয়ে ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্ট করেন।

পদ্মাসেতু নিয়ে গুণকীর্তন করে একটি ছবি পোস্ট করেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। ২০২২ সালের ২৫ জুন ক্যাপসনে লিখেন- "এই সেতু শুধু সেতু নয়, ইট সিমেন্ট কংক্রিটের স্থাপনা নয়, এই সেতু আমাদের অহঙ্কার আমাদের গর্ব এই সেতু আমাদের শক্তিমলা আর মর্যাদার প্রতীক।" মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

২০২২ সালে ১৪ আগস্ট তার ফেসবুকে পরেরদিন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের চুয়েট আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সমিতির একটি ব্যানার পোস্ট করেন। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো লেখা।

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ২০২৩ সালের ১৮ মে বক্তব্য রাখেন। সেই ছবি পোস্ট করে লিখেন- আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৩ তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা।

আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের আওয়ামী লীগের বন্ধনা করে এমন বহু ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আন্দোলনে যারা সমর্থন দিয়েছেন এরমধ্যে প্রথম সাড়িতে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা শিক্ষক এ টি এম শাহজাহান।

এছাড়া মাঠে সক্রিয় শিবির এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। মূলত বিএনপি সরকারের এই নিয়োগকে দলীয়করণের একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করাতেই আন্দোলন করছেন তারা। শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম একটি পোস্ট দিয়েছেন- সেখানে তিনি দলীয়করণ ও একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ করেন।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সোমবার তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে।
বিভি/এনএম













মন্তব্য করুন: