ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের বিকাশকে কাজে লাগিয়ে ট্রান্স-হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘The 4th Trans-Himalayan Communication And Social Development Conference’ শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, লোক প্রশাসন বিভাগ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং চীনের ইলেকট্রনিক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির লোক প্রশাসন বিভাগ, চীনের কংবা টিভি এবং নেপালের হিমালয় টেলিভিশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তৈয়েবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের ইলেকট্রনিক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. হু জুন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবর রহমান ও নেপালের হিমালয় টেলিভিশনের সিইও মি. শ্যাম কাদেল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। প্যান-হিমালয়ান কমিউনিকেশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. হান হং স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীর ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নায়িম সুলতানা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। যৌথ গবেষণা, যৌথ পাঠদান এবং গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সাহিত্য অনুবাদ, তথ্যনির্ভর যৌথ গবেষণা এবং সাংবাদিকতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচালনা ও ডিজিটাল কূটনীতি বিষয়েও গবেষণা বাড়াতে হবে। গবেষণাপত্রের পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত, শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণার পদ্ধতি বিনিময় করতে হবে। গণমাধ্যম ও তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যৌথ পাঠক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। তরুণদের শুধু আলোচনার শ্রোতা হিসেবে রাখলে চলবে না, বরং আলোচনার বিষয় নির্ধারণেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনস্বাস্থ্যের মতো সমস্যা কোনো একটি দেশের একক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। একে অপরের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও স্থানীয় তথ্য বিনিময় করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরতে হবে এবং গণমাধ্যমকে এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গবেষণার ফলাফল কাজে লাগিয়ে নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উন্নয়নের জন্য জ্ঞান বিনিময়ের অর্থ কেবল প্রতিবেদন প্রকাশ করা নয়। এখানে জবাবদিহিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; বৈধতাই হলো এর মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে—যখন ভুল তথ্য, অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্যের ছড়াছড়ি—তখন এই জ্ঞান বিনিময় অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় এই জ্ঞান বিনিময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যমের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান সৃষ্টি ও যাচাই করে, আর গণমাধ্যম তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। সম্মিলিতভাবে তারা গবেষণাকে ভালো সিদ্ধান্তে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়ের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, সম্মেলনে চীনের ইলেকট্রনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, চীনের কংবা টিভি এবং নেপালের হিমালয় টেলিভিশয়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।
বিভি/এমআর













মন্তব্য করুন: