• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

অদম্য তামান্নার স্বপ্ন মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ার

জয়নাল আবেদীন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ৫ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
অদম্য তামান্নার স্বপ্ন মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ার

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী তামান্না আক্তার নূরা। এক পা-ই তাঁর সম্বল। এক পা দিয়ে লিখেই ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তামান্না। বিজ্ঞান শাখার 'ক' ইউনিট থেকে ৪৮.২৫ মার্ক পেয়ে সে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। 

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) গুচ্ছের ফলাফল দিলে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে পি.ই.সি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসিতে মোট চারটি বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলো তামান্না ।

তামান্নার স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিষয় নিয়ে পড়ার। সে আসলে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়টি পাবে কিনা এমন প্রশ্ন এখন সবার মনে মনে।গতবারের গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ৪৭ থেকে বা তার উপরে মার্ক থাকা শিক্ষার্থীরা মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।তামান্নার মার্কও ৪৮.২৫। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তামান্নার রয়েছে বিশেষ কোটা।ধারণা করা হচ্ছে সে আরো একধাপ এগিয়ে সুযোগ পেতে পারে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ার। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান,আমার এক বন্ধু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পড়ছে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে। তার মার্কও ছিলো তামান্নার মতো।তবে প্রতিবছরে পাশ ফেলের পার্থক্য থাকে। সেই কারণে এবার কত মার্কে চান্স হবে তা বলা মুশকিল। তবে আমরা আগেরবছর ধারণা করে বলতে পারি তামান্না তাঁর পছন্দ বিষয় পেতে পারে।

অদম্যমেধাবী তামান্না আক্তার নূরার গ্রাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নে। তামান্নার বাবার নাম রওশন আলী। মায়ের নাম খাদিজা পারভীন শিল্পী। বাবা স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার (নন এমপিও) বিএসসির শিক্ষক। মা গৃহিণী। তিন সন্তানের মধ্যে সেই সবার বড়।

তামান্নার পিতা জানান, আমার মেয়ের মাইক্রোবায়োলজি সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছে।যেহেতু আমার মেয়ের বিশেষ যত্ন নিতে হয়, সেহেতু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে খুব খুশী হতাম।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তামান্না জানান, আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বহু চেষ্টা চালিয়েছি।মহান আল্লাহ ও পিতা-মাতা আমার জন্যে অনেক কিছু করেছেন।আমি উচ্চশিক্ষা অর্জনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়তে চাই ।আশাকরি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামছুর রহমান অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'তামান্না আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী। তার মেধার প্রশংসা আমাদের কলেজ শিক্ষকরা প্রায় করে। তামান্না জন্মপ্রতিবন্ধী হয়েও নানান প্রতিবন্ধকতা জয় করেছে, দেখিয়ে দিয়েছে সমাজকে। শুধু পড়াশোনা না, তামান্না ভালো ছবিও আঁকেন। এমনকি কম্পিউটার প্রযুক্তিতেও সে দক্ষ। আমরা আশাবাদী তামান্না বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির সেবাই আত্মনিয়োগ করবে।

অদম্য মেধাবী তামান্নার এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। সেইসময় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বোন শেখ রেহানা ফোন করে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তামান্নার স্বপ্ন পূরণে তাকে সাহস ও পাশে থাকার কথা বলেন। তামান্নার চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। সেখানে বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে তাঁকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করানো হয়।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: