ঋণখেলাপির অভিযোগে সোহমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
সোহম
কলকাতার অভিনেতা সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ। হাই কোর্টে তার নামে মামলা দায়ের করেছেন অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম। অভিযোগকারী ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলার নোটিস পেয়েও নীরব ছিলেন বিধায়ক ও অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। বাধ্য হয়ে এ বার তিনি সালিশির নোটিস (আরবিট্রেশন) পাঠালেন সোহমকে।
অভিযোগকারী শাহিদের আইনজীবী পিন্টু বলেছেন, ঋণের ব্যাপারে সোহম কোনও সাড়া দেননি। তাই আমরা এ বার সালিশি আইনে আলাদা করে আবার একটি মামলা দায়ের করলাম। বুধবার নোটিস পাঠানো হয়েছে সোহমকে।”
আইনজীবী জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী হাই কোর্ট একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে ‘আরবিট্রেটর’ নিযুক্ত করবেন। তিনি উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তার মক্কেলের বকেয়া পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করবেন। তার কথায়, “মামলা উঠবে মার্চ মাসের মাঝামাঝি। সোহম সহযোগিতা করলে বিধাসভা নির্বাচনের আগেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।
রাজ্যে এপ্রিল-মে মাস নাগাদ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি মামলা। নতুন করে নোটিস পেলেন তিনি।
এ নিয়ে সোহম বলেন, আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে আমিও আইনি পদক্ষেপ করব। তবে উনি কোন কালে যুবনেতা ছিলেন, সেটা জানি না।
সোহমের আক্ষেপ, সামনে নির্বাচন আসছে বলেই হয়তো পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘মানিকজোড়’ ছবির জন্য ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক-অভিনেতা-প্রযোজক। ঋণ নিয়েছিলেন অভিযোগকারী শাহিদ ইমামের থেকে। তিনিও অভিনেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের আরামবাগের যুবনেতা। ২০২২ সালে এসএসসিকাণ্ডে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০২৪ সালে মুক্তি পান শাহিদ। তিনি বলেছিলেন, “সংশোধনাগারে থাকার ফলে আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। ২০২৩ সালে জামিন পাই। সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে যোগাযোগ করি সোহমের সঙ্গে। তার থেকে টাকা ফেরত চাই।” শাহিদের কথা অনুযায়ী, সেই সময়ে দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাকে ফেরত দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। তার পরেই তিনি নীরব।
বাকি টাকা আদায় করতে না পেরে শাহিদ ১৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে সোহমের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চারু মার্কেট থানায়।
এ প্রসঙ্গে সোহম বলেছিলেন, “বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেব, বার বার বলেছি শাহিদকে। আমার কয়েকটি ছবি আটকে আছে। বাংলা ছবির ব্যবসার অবস্থাও সকলের জানা। ফলে, ছবিমুক্তি না ঘটলে বা হাতে টাকা না এলে কী করে ঋণশোধ করব? শাহিদ আমার অবস্থাটাই বুঝলেন না!
বিভি/জোহা



মন্তব্য করুন: