• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জায়েদ খানের আহ্বান 

প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২৫ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জায়েদ খানের আহ্বান 

ছবি: তারেক রহমান ও জায়েদ খান

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ২০২৪ সালের ২৬ জুন দেশ ছেড়েছিলেন। যুক্তরাজ্যে শো করার জন্য তিনি সে দেশে গিয়েছিলেন। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে আর দেশে ফেরা হয়নি। প্রায় দুই বছর ধরে দূর প্রবাসে অবস্থান করছেন এ অভিনেতা।

দেশছাড়ার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততা ছিলো তার। ফলে দেশের বাইরে নিয়মিত যাওয়া-আসা। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলে পরে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি জায়েদ খানের।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে জায়েদ খান বলেন, দেশে ফিরতে তার কোনো বাধা নেই। হাতে কিছু কাজ রয়েছে। নিয়মিত শো করছেন তিনি। অন্যান্য দেশে শো করছেন। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

একই সঙ্গে নিজের নামে হওয়া মামলার ব্যাপারে অভিনেতা বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকে মামলা করা হয়েছে। যারা অভিযোগ জানিয়েছেন, তারাও জানেন— অভিযোগগুলো মিথ্যা।’

এ অভিনেতা বলেন, আমি ২০২৪ সালের ২৬ জুন দেশ ছেড়েছি। শো করতে এসে আটকে গেছি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমি আটকে পড়ি। আমিসহ অনেকের নামেই মামলা হয়েছে। তাদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। মিথ্যা মামলা হলে স্বাভাবিকভাবে শিল্পীরা বিব্রত হন।

জায়েদ খান বলেন, যদি বলেন— আমার রাজনৈতিক চাপ ছিলো, তাহলে অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রেই সেটি ছিল। কিছু দিন হলো নির্বাচন হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন অনেক অভিযুক্ত শিল্পী দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলাগুলোও তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। কারণ শিল্পীরা সহজ-সরল। এ সুযোগটা কিছু অসাধু ব্যক্তি কাজে লাগিয়েছে।

গত দেড় বছর সময়ে একবারও দেশে ফেরেননি জায়েদ খান। আবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় অভিযুক্ত করায় গুঞ্জন শোনা যায়― জায়েদ খান নাকি আর দেশে ফিরবেন না। এমন প্রশ্নের উত্তরে অকপটে জবাব দেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, এটি একদমই ভুল। আমি দেশে ফিরবো না কেন, অবশ্যই ফিরবো। সময়-সুযোগ হলে বাংলাদেশে যাবো, এটি আমার মাতৃভূমি।

অভিনেতা বলেন, সেখানে গ্রামে আমার মা-বাবার কবর। দেশে থাকাবস্থায় মাঝে মধ্যেই গ্রামে গিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করেছি আমি। দেশে আমার ভাই-বোন রয়েছে। শিল্পী হিসেবে সহকর্মী শিল্পীদের নিয়মিত খোঁজ রেখেছি। এত এত প্রিয় মানুষ রেখে আপাতত এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে যাওয়ার কথা ভাবছি না।

জায়েদ খান বলেন, এখানে আমি ঠিকানা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশি তারকাদের নিয়ে নিয়মিত শো করছি। আবার হাতে শর্টফিল্মের কাজ রয়েছে। সে জন্য নিজেকে ভেঙে গড়েছি। পাশাপাশি স্টেজ শো তো রয়েছেই। এসব ব্যস্ততা থেকে দেশে যাওয়া হচ্ছে না। তবে দেশে ফিরবো, অবশ্যই ফিরবো।

অনেক শিল্পী এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। আবার অনেকেই দেশছাড়ার জন্য চেষ্টা করেও সফল হননি। এ বিষয়ে অভিনেতা বলেন, সময়ের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। তিনি একজন শিল্পী, আজীবন ক্যামেরার সামনে থাকতে চান। যদি সেই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে দেশের মানুষের সঙ্গে হয়ে ওঠে, বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করে সেটি সম্ভব হলে খারাপ কি। দিনশেষে কোথায় ভালো থাকা যায়, সেটিই মুখ্য বিষয়। তিনি বলেন, কে না চায় ভালো ও সুন্দর একটি জীবন। দেশের বিগত সময়ের পরিস্থিতিও শিল্পীদের দেশছাড়তে বাধ্য করেছে। জায়েদ খান বলেন, শিল্পীদের কোনো সীমানা নেই। তারা সব দেশের জন্য কাজ করবে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করবে।

বিগত সময় অনেক শিল্পীকে রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য। অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে— কোনো মানুষ কি নিরপেক্ষ হতে পারে? প্রতিটি মানুষেরই তো পছন্দের কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল রয়েছে বা থাকে। হয়তো কেউ তা প্রকাশ করে, আবার কেউ মনের মধ্যেই রাখে।’

শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কখনো কি দেখেছেন— কোনো শিল্পী কোনো দুর্নীতি করেছে? সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জড়িত? কোনো মানুষ হত্যা করেছে? তিনি বলেন, শিল্পীদের দ্বারা এসব হয় না। শিল্পীরা সহজ-সরল হয়ে থাকে। হয়তো তারা তাদের পছন্দের দলের হয়ে কাজ করেছে। পছন্দের দলের হয়ে কাজ করলেই কী সে অপরাধী?

জায়েদ খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন শিল্পী সমিতির দায়িত্বে ছিলাম। কই, আমরা তো বিএফডিসিতে কিংবা কোনো শিল্পীর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা বৈষম্য দেখাইনি। আমাদের সিনিয়ররাও তো আমাদের সঙ্গে এমনটি করেনি। কিছু দিন আগেই দেশে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে অনেক অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী দলের পক্ষে প্রচার করেছে। তাই বলে কী তারা অপরাধী? তারা পছন্দের দলের জন্য কাজ করেছে, যা স্বাভাবিক।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এতে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। সরকার হওয়ার পরও কথা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান জায়েদ খান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা রেখে অভিনেতা বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অনেক গণতন্ত্রমুখী। আপনার কাছে দেশের সাধারণ মানুষের অনেক আশা-প্রত্যাশা রয়েছে। একইভাবে একজন শিল্পী হিসেবে বলব, আপনি শিল্পীদের বিষয়টি সুনজরে দেখবেন। সব শিল্পীকে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ করে দেবেন। শিল্পীরা তাদের কাজ করুক।

এ অভিনেতা আরও বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করুন। আপনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক। আর কোনো শিল্পীর যদি ভুল-ত্রুটিও থাকে, তাহলে তাদের সংশোধনের সুযোগ করে দিন। একশ্রেণির মানুষ শিল্পীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জেল-জরিমানা করছে, যা ঠিক নয়। শিল্পীদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশা করছি।

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন: