লেবাননে হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ মিয়া খলিফার
ছবি: মিয়া খলিফা (সংগৃহীত)
লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সাম্প্রতিক তীব্রতা বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মুখ খুলেছেন লেবানিজ-আমেরিকান সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মিয়া খলিফা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে আমেরিকা এবং ইরান উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে, সেখানে এই সংঘাতের বিস্তারকে তিনি ‘সন্ত্রাসবাদ’ ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মিয়া খলিফার বিতর্কিত ও জোরালো বক্তব্য
নিজের ভিডিও বার্তায় মিয়া খলিফা লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরাইলকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী। তার মতে, বিশ্বশক্তিগুলো যখন শান্তির কথা বলছে, তখন বাস্তবে মাটিতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং আক্রমণ আরও জোরালো হচ্ছে, যা সাধারণ লেবানিজদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে।
যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকা ও ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চললেও ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মিয়া খলিফা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা ‘যুদ্ধবিরতির ডাক’ বাস্তবে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বড় শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও সামরিক শক্তির প্রয়োগ বন্ধ না হওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মিয়া খলিফার এই ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে তিনি বরাবরই দেশটির অধিকার নিয়ে সরব থাকেন। অনেক নেটিজেন তার এই সাহসকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে একাংশ তার কড়া শব্দ ব্যবহারের সমালোচনাও করেছেন। এর আগেও ফিলিস্তিন-ইসরাইল ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করে তিনি একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন এবং কিছু পেশাদার চুক্তিও হারিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজমান। হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে ঘনঘন রকেট হামলা এবং পাল্টা বিমান হামলায় সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংঘাত বড় আকারের যুদ্ধের রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তারকাদের প্রভাব বা মন্তব্য বিশ্বজুড়ে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া খলিফার এই অবস্থান আবারও প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং মানবাধিকার ইস্যুটি বিশ্বজুড়ে কতোটা সংবেদনশীল। সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।- সূত্র:নিউ আরব ডট কম।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: