• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

১৪ দেশের শিক্ষার্থী নিয়ে তুরস্কে মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

প্রকাশিত: ২০:০০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফন্ট সাইজ
১৪ দেশের শিক্ষার্থী নিয়ে তুরস্কে মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

তুরস্কের বাংলাদেশ দুতাবাস, আংকারার আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন দুতাবাস এবং আঙ্কারাস্থ ইউজে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে  'মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস দুটি পর্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে দূতাবাস প্রাঙ্গন এবং 'বিজয় ৭১ মিলনাতয়নে' অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি, তুরস্কের ছাত্র-ছাত্রী, দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারবর্গের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা শেষে দূতাবাস প্রাঙ্গনের স্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত এম.আমানুল হক, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেকুর রহমান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিবৃন্দ। এরপর ভাষা শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

দূতাবাসের 'বিজয় ৭১ মিলনাতয়নে' আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ, ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান এবং একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। 

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত এম, আমানুল হক, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেকুর রহমান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে কর্ণেল (অব:) নাসির হায়দার। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে এবারের শহীদ দিবসের প্রতিপাদ্য 'বহুভাষার মাধ্যমে শিক্ষা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জ্ঞান চর্চার স্তম্ভ'-এর আলোকে ভাষা বৈচিত্রের গুরুত্ব ও ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করায় আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা সুউচ্চ পর্যায়ে স্থাপিত হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা মোতাবেক প্রবাসী বাংলাদেশি ও দুতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সন্তানেরা যেন বাংলা ভাষা চর্চা অব্যাহত রাখে এবং ভাষা দিবসের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, পৃথিবীর কোন মাতৃভাষাই যেন হারিয়ে না যায় সে ব্যাপারে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধি হিসেবে কর্ণেল (অব:) নাসির হায়দার বলেন, আমরা বাংলাদেশিরা যেমন যোগাযোগের প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের ভাষা শিখি, একইভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সচেষ্ট হলে বিদেশিরাও আরো বেশি উদ্বুদ্ধ হবে বাংলা ভাষা চর্চায়। এতে করেই বাংলা ভাষার আলো বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি মত প্রদান করেন।

২১শে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বটি 'ইউজে ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে' অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করেন এবং একটি শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীগণ, দুতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিগণ ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। 

পরবর্তীতে ইউজে স্কুল অডিটরিয়ামে একটি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থীর সামনে রাষ্ট্রদূত এবং স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। 

পরবর্তীতে রাশিয়া, তুরস্ক, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইরান, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, ইকুয়েডর, কিরগিজিস্তান, মঙ্গোলিয়া, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, কিরগিজিস্তান, এঙ্গোলা ও এল সালভেদরের শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ ভাষায় নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে রাশিয়া, শ্রীলংকা, লেবানন, ডমিনিকান রিপাবলিক ও মিশর দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: