এপস্টেইন ফাইল পশ্চিমা সভ্যতার এক বিভৎস আয়না: শায়খ আহমাদুল্লাহ
বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া এপস্টেইন ফাইল নিয়ে এবার মন্তব্য করেছেন আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার মতে, এপস্টেইন ফাইল একটি কেলেঙ্কারি নয়; এটি সভ্যতার আয়না। এই আয়নার মাধ্যমে আমরা পশ্চিমা সভ্যতার বিভৎস চেহারাটা আবারো দেখে ফেললাম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব আসলে কী গভীর নৈতিক অধঃপতনের মধ্যে নিমজ্জিত, তার এক মর্মন্তুদ দলিল এই ফাইল। রাষ্ট্রনায়ক, শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সংস্কৃতির নামকরা মুখগুলো—যাদেরকে অনেকে সম্মান ও অনুসরণ করে— শিশু পা*চা*র, যৌ*ন নি*র্যা*তন, মা*নব**মাং*স ভ*ক্ষ*ণের অভিযোগসহ জঘন্য ও বীভৎস সব অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।
তিনি আরও লিখেছেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদ ও নৈতিকতাহীনতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এরই পরিণতি হিসেবে আমরা দেখি পারিবারিক বন্ধনের ক্ষয়, লজ্জা-সম্মানবোধের অবলুপ্তি এবং এক অন্ধকার বাণিজ্যের জগৎ, যার প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে। আল্লাহর ভয়হীন সমাজ যত ঝকঝকে তকতকে হোক, সুযোগ থাকলে ভোগবাদী মানুষ ধীরে ধীরে কোন স্তরে পৌঁছুতে পারে, এই ঘটনা তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।
পাশবিক এই বর্বরতা নিয়ে তিনি লিখেছেন, তবে এপস্টেইনের ঘটনাটাকে স্রেফ বিকৃত মানসিকতা থেকে উৎসারিত বলা কঠিন। খোলা চোখে যেগুলোকে বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে হয়, সেগুলো পরিকল্পিতভাবে শয়তানতুষ্টির প্রচেষ্টার রিচুয়াল। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্রে ও ধারাবাহিকভাবে এমন জঘন্য পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, একে কেবল মানসিক বিকৃতি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি এতে শয়তানি উপাসনা ও আরাধনার এক সুসংগঠিত রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও লিখেছেন, পশ্চিমারা আমাদের ঈমান-আমল ও দ্বীনি রিচুয়াল নিয়ে উপহাস করে মূলত আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তি দুর্বল করেছে। পক্ষান্তরে তারা তাদের স্যাটানিক রিচুয়ালিটি ঠিকই বজায় রেখে চলছে।
তার মতে, এই অন্ধকার বাস্তবতার বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু সুরক্ষিত, পরিবার পবিত্র দূর্গ। ইসলামে নৈতিকতা রক্ষার জন্য রয়েছে আইনি ও আধ্যাত্মিক উভয় বেষ্টনী।
জঘন্য এই কর্মকাণ্ড নিয়ে তার ভাষ্য, এই ঘটনা আমাদের সামনে সভ্যতার সংজ্ঞা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। আমরা কোন সংস্কৃতি বেছে নেব—যে সংস্কৃতিতে ভোগই শেষ কথা, নাকি যে সংস্কৃতিতে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে? আমরা কি স্যাটানিক রিচুয়াল গ্রহণ করবো, নাকি মহান আল্লাহর সাথে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথে হাঁটব?
একই পোস্টের কমেন্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর কারো ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কিছু পেলে সেটা পুরো সমাজের বিরুদ্ধে অস্ত্র বানিয়ে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করা তথাকথিত সুশীলদের দেখবেন, এরকম গুরুতর ঘটনায়ও একেবারে নিশ্চুপ। এমন দ্বিমুখী আচরণে বারবার তাদের আসল রূপ উন্মোচিত হয়।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: