• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মায়ের এক কিডনিতে বেঁচে গেল সন্তান, বাংলাদেশেই সফল প্রতিস্থাপন  

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৫ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মায়ের এক কিডনিতে বেঁচে গেল সন্তান, বাংলাদেশেই সফল প্রতিস্থাপন  

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভোগছেন। বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। হঠাৎ আলোর দূত হয়ে এলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল চিকিৎসক। করলেন সফল কিডনি প্রতিস্থাপন। 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর বুধবার ছাড়পত্র পান সেই রোগী।

নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে ভর্তি এই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগ। ডোনারের থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে, গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।

কিডনি রোগে আক্রান্ত এই রোগী সম্পূর্ণভাবে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিল, আর এর ব্যয় বহন করা রোগী ও তার পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে রোগীর মায়ের আকুতিতে বর্তমান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এ বছরের ২২ জানুয়ারি রোগী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২ মার্চ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে কিডনি দান করেন তার গর্ভধারিণী মা।

রোগীর ছাড়পত্র প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রোগীকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

দেশে আইনি জটিলতার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখনো অনেকটাই কম। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম বলে দাবি করেন চিকিৎসকরা।
 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: