উদ্বেগ বাড়ছে, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে। বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল-এ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত ‘হাম কর্নার’ এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানান, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে, আর ২৯ জন সন্দেহভাজন হিসেবে মারা গেছে; পরীক্ষায় তাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত শিশুদের দুটি পৃথক কর্নার ও সাধারণ ওয়ার্ডে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক সাহিদা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ শিশুর বয়স ছয় মাসের নিচে, যা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এক বছরের বেশি বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ১,২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, শরীয়তপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ৯ দিনে জেলায় হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে সম্প্রতি ৭ শিশুর দেহে হাম এবং একজনের দেহে রুবেলা রোগ শনাক্ত হয়েছে। এতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: