• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ঘণ্টাব্যাপী মোবাইলের স্ক্রিন দেখিয়ে শিশুর ক্ষতি করছেন না তো?

প্রকাশিত: ১৪:০৫, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:০৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঘণ্টাব্যাপী মোবাইলের স্ক্রিন দেখিয়ে শিশুর ক্ষতি করছেন না তো?

শিশুদের জীবনে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটালে তাদের ভাষার বিকাশ, চিন্তাশক্তি এবং সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান দ্য লাইটহাউস অ্যারাবিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারওম্যান ডা. সালিহা আফ্রিদি বলেছেন, শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ভিডিওও সব সময় ক্ষতিহীন নয়। শিশুর বয়স, কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে এবং কতক্ষণ স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছে—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

আফ্রিদির মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা এর বেশি স্ক্রিন ব্যবহার অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার ভাষায়, এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল বেশ স্পষ্ট।

তিনি বলেন, ছোটবেলায় মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শিশুদের চারপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখা, অন্য মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করা এবং সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ প্রয়োজন। মা-বাবার চোখের দিকে তাকানো, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, মাটি স্পর্শ করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আফ্রিদি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখলেও দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা শিশুর স্বাভাবিক শেখার অভিজ্ঞতাকে সীমিত করতে পারে। এতে চিন্তাশক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে বিলম্ব হতে পারে।

তিনি বলেন, এর প্রভাব শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিশুদের সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং আবেগ বোঝার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রযুক্তি এখন শিক্ষা, বিনোদন ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে। তাই শিশুদের সব ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম থেকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। বরং বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কনটেন্ট বেছে দেওয়া এবং অনলাইন জগতে নিরাপদে চলার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইএনজাজ ইউএইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজান বাশিতি বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শুধু তাদের ব্যবহার সীমিত করার দিকে মনোযোগ দিলে চলবে না। ইন্টারনেট নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও গড়ে তুলতে হবে।

তার মতে, প্রযুক্তি এখন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সহায়তা করছে এবং বাড়িতে শিশুদের শেখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে। ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে বিপুল শিক্ষামূলক তথ্য রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগাতে মা-বাবাকে দায়িত্বশীল আচরণের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ, অনলাইন অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং উপকারী ও ক্ষতিকর কনটেন্টের পার্থক্য বোঝাতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রণে গুগল ও ইউটিউবও বিভিন্ন সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগতভাবে ভিডিও আপলোডের সুবিধা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ রাখা এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখা। এ ছাড়া গুগল ফ্যামিলি লিংক ও ইউটিউব ফ্যামিলি সেন্টারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে ইউটিউব শিশু ও কিশোরদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট চালু করে। এসব অ্যাকাউন্টে বয়স ও বিকাশের স্তর অনুযায়ী কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। ইউটিউব শর্টস দেখার সময় দৈনিক শূন্য মিনিট নির্ধারণ করার সুবিধাও রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ সুবিধাসহ আলাদা অ্যাপ ইউটিউব কিডস চালু করা হয়।

কান্তার নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক জরিপে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের ৯৫ শতাংশ দর্শক মনে করেন, ইউটিউবে মানসম্মত শিক্ষামূলক কনটেন্ট রয়েছে। একই জরিপে জেনারেশন জেডের ৯২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মটি তাঁদের নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেছে।

তবে শিক্ষামূলক কনটেন্টের সহজলভ্যতা থাকলেও শিশুদের বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ এবং অভিভাবকের তদারকির প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সরকারি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (টিডিআরএ) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ বেলহৌল বলেন, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির কৌশলে প্রতিরোধ, সচেতনতা ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষার অর্থ তাদের ডিজিটাল জগৎ থেকে দূরে রাখা নয়; বরং সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই জগৎ ঘুরে দেখা এবং এর সুযোগগুলো কাজে লাগাতে সক্ষম করে তোলা।

সূত্র: খালিজ টাইমস

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত