• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

আকাশে পুড়ছে হাজারো স্যাটেলাইট, বদলাচ্ছে রাতের আকাশ

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ৫ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আকাশে পুড়ছে হাজারো স্যাটেলাইট, বদলাচ্ছে রাতের আকাশ

প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে হাজারো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। আয়ু শেষে এসব স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর উপরের বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত মহাকাশে ১৪০০০ হাজার স্যাটেলাইট রয়েছে এবং ১.২৩ মিলিয়ন স্যাটেলাইট প্রজেক্ট বিভিন্ন পর্যায়ে উৎক্ষেপনের অপেক্ষায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এমন যেন আমাদের আকাশ এখন ‘স্যাটেলাইটের চিতাঘর’ হয়ে উঠছে। দ্য কনভারসেশন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে লো আর্থ অরবিটে থাকা স্যাটেলাইটগুলোর আয়ু শেষ হলে সেগুলো ইচ্ছে করেই বায়ুমণ্ডলে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। 

পুড়ে যাওয়ার সময় এসব স্যাটেলাইট থেকে অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধাতু নির্গমনের সময় উৎপন্ন অ্যালুমিনা কণা বহু বছর বায়ুমণ্ডলে ভেসে থাকতে পারে। এতে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ক্ষতির ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বেশি পরিমাণে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।

শুধু তাই নয়, স্যাটেলাইট ও মহাকাশের আবর্জনা বাড়ায় সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়ছে। এতে ‘কেসলার সিনড্রোম’ বা  একটি ধাক্কা থেকে ধারাবাহিক ধাক্কার বিপজ্জনক চক্র তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালে ৩০ জানুয়ারী: স্পেস এক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এক মিলিয়নের বেশি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর আবেদন করেছে। এসব স্যাটেলাইট তাদের আয়ুষ্কাল শেষে যখন আকাশে পোড়ানো হবে তখন কি অবস্থা দাড়াবে, কে জানে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ ব্যবহারে টেকসই নীতি ও কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম এখন সময়ের দাবি। তা নাপ হলে, একদিকে আকাশ ভরে উঠবে মহাকাশের আবর্জনায়, অন্যদিকে বায়ুমণ্ডল ও ওজোন স্তরের ওপর বাড়বে অদৃশ্য চাপ। তাই প্রযুক্তির এই দৌড়ে পৃথিবী ও মহাকাশের ভারসাম্য রক্ষাই হওয়া উচিত মানবজাতির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত