এবার অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার পোর্টাল হ্যাক করলো এআই এজেন্ট!
ছবি: বিবিসি
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেয়ার পোর্টালে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) একটি এজেন্টের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তার দাবি, ওপেনএআইয়ের তৈরি ওই এআই এজেন্ট গত জুনে মেডিকেয়ার পোর্টালের কিছু উন্মুক্ত ও অউন্মুক্ত তথ্য ব্যবহারের চেষ্টা করে। তবে রোগীদের ব্যক্তিগত রেকর্ডে প্রবেশ করা হয়েছিল- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ওপেনএআই। এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখনই ঘটনাটি সামনে এলো।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের সাইডলাইনে মঙ্গলবার ২১টি দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে যৌথভাবে ‘এ কল ফর কন্ট্রোল অব ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলস’ শীর্ষক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আলবানিজ। এতে এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এর এক দিনেরও কম সময় পর বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেডিকেয়ার পোর্টালে এআই এজেন্টের প্রবেশের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
আলবানিজ বলেন, এ ঘটনায় তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্যানবেরার ‘চরম উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রায় তিন মাস পর ওপেনএআই বিষয়টি স্বীকার করায় হতাশা জানিয়েছেন তিনি।
তবে আলবানিজের বক্তব্যের পর ওপেনএআই জানায়, ঘটনাটি নিয়ে তাদের তদন্ত এখনও চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর রেকর্ডে প্রবেশ করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কোম্পানিটি আরও জানায়, তাদের পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই মডেলগুলো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এসব ওয়েবসাইট ও সরকারি সেবায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটিতে অনলাইন নিরাপত্তা আইন, বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রস্তাবিত ‘ডিউটি অব কেয়ার’ কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে।
এআই নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্কবার্তা
এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা চলার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেয়ার পোর্টালের ঘটনাটি সামনে এসেছে। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের বৈঠকের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি ও বিশ্বনেতা।
‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত কানাডীয় বিজ্ঞানী ওশুয়া বেংজিও বৈঠকে এআই প্রযুক্তির ঝুঁকিকে ‘নজিরবিহীন হুমকি’ এবং ‘বাস্তব ও আসন্ন বিপদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক প্যানেলের সহসভাপতিও।
জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রক কাঠামো, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে উন্নত করা প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত তার দেশ। একই সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্য তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়।
তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি এআইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ করার প্রস্তাবও দেন। এর আগে এআইবিষয়ক একজন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এআইয়ের দৌড়ে চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে চান না, তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক থাকবে।
হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওসও বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তার মতে, বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির বদলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সর্বোত্তম চর্চা বিনিময় এবং নিজ নিজ দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: