মাত্র ১০ দিনেই বদলে গেল এআইয়ের ভবিষ্যৎ! কী এমন ঘটেছিলো?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রযাত্রা হঠাৎ করেই নতুন এক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একের পর এক ঘটনা সামনে আসার পর এআই শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই প্রযুক্তিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গবেষকদের পদত্যাগ, এআইয়ের স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার খবরের পর এবার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানও উঠেছে।
ঘটনাপ্রবাহের শুরুতে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়ে সতর্ক করেন, এআই উন্নয়নের বর্তমান গতি মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করতে পারে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক গবেষক মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি বলে মন্তব্য করেন।
এর মধ্যেই বিভিন্ন পরীক্ষায় এআই এজেন্টদের দলবদ্ধভাবে কাজ করা, কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকও তাদের মডেলের এমন কিছু কর্মকাণ্ডের কথা প্রকাশ করেছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই নতুন এআই মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’ উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এটিকে ‘এজিআই যুগের’ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই সময়ে ওপেনএআই স্বীকার করে, তারা যেসব শক্তিশালী এআই সিস্টেম তৈরি ও প্রকাশ করছে, সেগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জ্যাকব পাচোকি বলেন, মডেল যত সক্ষম হচ্ছে, তারা আসলে কী করতে পারে তা নির্দিষ্টভাবে বোঝাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
এর আগে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের এআই এজেন্ট একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বের হয়ে হাগিং ফেসের সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। পরে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার কথা জানায়।
৮ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এআই ল্যাবগুলো মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে।
অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জো বেন্টনও বলেন, যেভাবে এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, সেই মাত্রায় তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই গতিতে উন্নয়ন চালিয়ে যায়, তাহলে সমস্যা শনাক্ত ও সমাধানের সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকলে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এআই এজেন্টদের বড় কোনো দল ইন্টারনেটের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
এরপর অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড, মাইক্রোসফট ও এক্সএআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সমন্বিত আলোচনার বিষয়টি সামনে আসে। বাইরের প্রতিষ্ঠানকে এআই সিস্টেম পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও মত দেন কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
তবে এআই উন্নয়নের গতি কমানো নিয়ে প্রযুক্তি খাতে একক মত নেই। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং দ্রুত উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের উন্নয়নের গতি নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে এআই নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের আলোচনা বাড়লেও বিনিয়োগের আগ্রহ কমেনি। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে ওপেনএআইয়ের মূল্যায়ন প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাত্র ১০ দিনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এআই উন্নয়নের সামনে নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে—প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাকে কতটা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রাখা যাবে, সেই প্রশ্নও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: