• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

টেকনোপ্রেনারশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ‘টিম আশা’

প্রকাশিত: ০০:০৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:১৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
টেকনোপ্রেনারশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ‘টিম আশা’

চৌদ্দশত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২-এ চ্যাম্পিয়ন ‘টিম আশা’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে শেষ হয় আয়োজনের জমকালো অনুষ্ঠান। গিগালোজি লিমিটেডের আয়োজনে দেশীয় স্টার্টাপকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার দ্বিতীয় বারের মতো এই আয়োজনে প্রাথমিক ভাবে রেজিষ্ট্রেশন করে চৌদ্দ শত তরুণ উদ্যোক্তা। 

তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চৌদ্দ টিমকে নিয়ে শুরু হয় ফাইনালের লড়াই। বুধবার সকাল থেকেই প্রতিযোগীরা বিচারকদের সামনে তাদের প্রোজেক্ট প্রেজেন্টেশন শুরু করেন। প্রেজেন্টেশন শেষে বিচারকরা তরুণ উদ্যোক্তাদের তাদের প্রোজেক্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নে প্রোজেক্টের ভবিষ্যত, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ উঠে আসে। প্রতিযোগীরাও বিচারকের প্রশ্নের জবাব দিয়ে তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেন যে তাদের স্টার্টাপ কীভাবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেয় টিম আশা। প্রথম রানার্স আপ হয়েছে টিম ‘ট্রু ডে’ এবং সেকেন্ড রানার্স আপ হয়েছে টিম সার্ভিও। এ বিষয়ে টিম আশা’র সদস্যরা বাংলাভিশনকে বলেন, এই জয় আমাদের জন্য একটি অনন্য মাইলফলক। এই জয় আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপকে অনেক সহজ করে দিয়েছে এবং আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

এখন আমরা আমাদের প্রোজেক্টকে কিভাবে বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে পারি সে বিষয়ে গিগালোজির সাথে কাজ করবো। 

গিগালোজির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোসলেহ উদ্দিন বলেন, দেশের তরুণদের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই আয়োজনের লক্ষ্য। যদিও একটি স্টার্টাপকে ঘিরে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে কিভাবে দেশীয় তরুণকে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে নেওয়া যায় সে লক্ষ্য পুরণের আমরা কাজ করছি।  তিনি বলেন, প্রথম বারের ‍তুলনায় এবারের আয়োজনের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করার, পাশাপাশি এই উদ্যোগকে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করার। 

রনি তালুকদার, এক্সিকিউটিভ অফিসার ও সিডিটিও (CDTO), লুপ ইনকর্পোরেটেড, জাপান বলেন, গিগালজি আয়োজিত টেকনোপ্রেনারশিপ ব্যাচ ২ তরুণদের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতার সমন্বয় তরুণদের বাস্তব সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করতে সক্ষম করবে। সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরন্তর শেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষে একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

এসএসএল কমার্সের সিইও মো.  ইফতেখার আলম ইসাহক বাংলাভিশনকে বলেন, ‘গিগালজি আয়োজিত ‘টেকনোপ্রেনারশিপ ব্যাচ ২’ তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে তরুণরা নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’

আয়োজনে তরুণদের বিভিন্ন প্রোজেক্ট প্রেজেন্টেশন দেখেন জাপান থেকে আসা একদল বিনিয়োগকারী। পরবর্তীতে এসব বিনিয়োগকারীর সাথে তরুণদের বিস্তর আলোচনা হবে বলে জানায় গিগালজি।

আয়োজকরা জানান, টেকনোপ্রেনারশিপ ব্যাচ ২-এর মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া স্টার্টআপগুলোর সম্ভাবনা যাচাই করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গিগালজি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বেশি তরুণ উদ্যোক্তাকে সম্পৃক্ত করতে চায়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিকাশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিভি/ এসআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত