• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯

ইমেজ সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করা যেতে পারে সমাধান

বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ রোধে প্রাযুক্তিক সমাধান

শুভ ইসলাম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ৬ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৬:৪২, ৬ আগস্ট ২০২২

ফন্ট সাইজ
বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণ রোধে প্রাযুক্তিক সমাধান

সম্প্রতি টাঙ্গাইলে ঈগল পরিবহনের বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ধটনায় তোলপাড় সাড়া দেশ। সবশেষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাসচালক এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করে। তারপরেই নৈশকোচে ডাকাতি ও ধর্ষণ রোধে প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা বা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জোরেসোরে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতি রোধে বাসে সিগনাল বাটন বসানোর ব্যাপারে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনাও হয়। কিন্তু পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে যে ব্যায়ভার তা বেশি বলে পরে আর পরিকল্পনাটি বেশিদূর গড়ায়নি।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি প্রযুক্তিবিদদের নজর এড়ায়নি। নৈশকোচে ডাকাতি রোধে তারা বিকল্প কোনো ব্যবস্থার কথা বলছেন। তথ্য প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বাংলাভিশনকে বলেন, ‘নৈশকোচে ডাকাতি রোধে ইমেজ সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্য প্রযুক্তির তুলনায় এই প্রযুক্তির ব্যয়ও কম। এই প্রযুক্তিতে বাসে স্থাপিত ক্যামেরার মাধ্যমে সকল ব্যক্তিকে ধারণ করা সম্ভব। 

পুরো বাসকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে বাস ড্রাইভারের সামনে এবং বাসের পেছনের অংশে একটি ক্যামেরা বসানো যেতে পারে।

প্রযুক্তিটির মনিটরিং সিস্টেমে বাস মালিকরাও থাকবেন। কিন্তু সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম জিএসএম ডাটা সিস্টেমে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীর হাতে থাকতে পারে। অথবা ৯৯৯ এর মতো কোনো থার্ড পার্টিকে দেওয়া যেতে পারে।

সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘এক লাখ বাসকে টার্গেট করে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলে বাস প্রতি পনের থেকে বিশ হাজার টাকা এক বছরের জন্য খরচ পড়বে।’

বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করে?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন অনেক সফটওয়্যার ফার্মই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে কাজ করে। তাছাড়া এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে বেসিসও সহযোগিতা করতে পারে।’

কোভিড নিয়ন্ত্রণে চীনের উদাহরণ টেনে এই প্রযুক্তিবিদ বলেন, ‘করোনার সময় যারা টিকা নেয়নি বা শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে রাস্তায় বসানো ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাই ইমেজ সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের ডেটাবেস তৈরি করা গেলে আপরাধ দমন অনেটাই সহজ হয়ে যাবে।’

ই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ফেসবুক কেন্দ্রিক সমাধানের পথও বাতলে দিলেন এই প্রযুক্তিবিদ। ফেসবুক লগইন অবস্থায় লোকেশন শেয়ারিং অন থাকলে স্মার্টফোনকে ডানে-বামে নাড়ালে নিকটস্থ বন্ধুর নিকট নোটিফিকেশন যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো ফোন ডানে-বাম নাড়িয়ে তারপর আপনাকে রিপোর্ট করতে হবে। হয়ত ততোক্ষণে ডাকাত দল আপনার ফোন তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে। 

বাস মালিকরা এমন প্রস্তাবে রাজি না হলে করণীয় কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে পাবলিক ফান্ডও গঠন করা যেতে পারে। এখন ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যম ফান্ড গঠনের পদ্ধতি আছে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। অথবা সমাজের দায়িত্বশীল কোনো ব্যাক্তি দায়িত্ব নিয়ে গ্রুপকেন্দ্রিক বা সামাজিক গ্রুপ খুলে ফান্ড গঠন করতে পারেন।’

সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই এসব কার্মকাণ্ডে এগিয়ে আসবেন বলে মনে করেন তিনি। 

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: