• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

Drama: Jamai Bou Chor
Drama: Jamai Bou Chor

ইসরাইলের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তুরস্ক, আকাশপথ ও বন্দর সংযোগ বন্ধ

প্রকাশিত: ১২:০৫, ৩০ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১২:০৬, ৩০ আগস্ট ২০২৫

ফন্ট সাইজ
ইসরাইলের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলো তুরস্ক, আকাশপথ ও বন্দর সংযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের সাথে আকাশ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে তুরস্ক। দুই দেশের ভেতর বাণিজ্যিক লেনদেনও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ ও সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা ইসরাইলের সাথে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তুর্কি আকাশসীমাও ইসরাইলি বিমানের জন্য বন্ধ রয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট তুরস্কের জাতীয় সংসদে গাজা প্রসঙ্গে একটি বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ফিদান বলেন, ইসরাইল গত দুই বছর ধরে গাজায় যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, তা পুরো বিশ্বে মানবতা ও নৈতিকতার ভিত্তিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে।

এর আগে ২০২৩ সালে তুরস্ক ও ইসরাইলের ভেতর প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক লেনদেন হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে তুরস্ক ইসরাইলের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সেসময় গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানায় দেশটি।

ফিদান জানিয়েছেন, তুরস্ক থেকে কোনো জাহাজ এখন আর ইসরাইলের বন্দরগুলোর উদ্দেশে যেতে পারছে না। এছাড়া ইসরাইলি জাহাজগুলোও তুরস্কের কোনো বন্দরে ভিড়তে পারছে না।

এর আগে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে ইসরাইলকে গণহত্যাকারী বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর আচরণ হিটলারের মতো। তিনি নেতানিয়াহুকে নাৎসি নেতার সঙ্গে তুলনা করেন।

আল-জাজিরার তথ্যমতে, তুরস্ক তাদের কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরাইলকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। এছাড়া গত ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার পুনর্গঠনের পথে ইসরাইলকে একটি বড় বাধা হিসেবেও দেখছে আঙ্কারা।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ফলে আঙ্কারার দৃষ্টি এখন গ্লোবাল সাউথ ও বিশ্বে উদীয়মান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর দিকে রয়েছে।

এদিকে ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার দাবি করেন, তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের মিত্র দেশ ছিল। দেশটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ইসরাইলিদের কাছে জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পর্যটনস্থল হিসেবেও পরিচিত ছিল। ফলে বর্তমানে অনেক ইসরাইলি নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের বিমান তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি তুরস্ক। পরবর্তীতে এরদোয়ান জানান, তুরস্ককে কিছু বিষয় নিয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান গ্রহণ করতে হয়। দুই দেশের সম্পর্ক মূলত ২০১০ সালে অবনতির দিকে যায়। সেসময় তুরস্কের একটি জাহাজে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০ জন তুর্কি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরে একটি বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে তুর্কি-আমেরিকান এক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

বিভি/আইজে

মন্তব্য করুন: