• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

যে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ১০:১৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
যে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর আরোপিত শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত অনুমোদন না করায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন। আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত বছর ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা এখনো অনুমোদন না করায় তিনি শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে উন্নীত করছেন।

ট্রাম্প জানান, এই বাড়তি শুল্ক গাড়ি, কাঠ, ওষুধ শিল্পের পণ্য, পাশাপাশি তার ঘোষিত মৌলিক ‘পারস্পরিক (reciprocal) শুল্ক’-এর আওতায় থাকা সব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত মানছে না। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন কোরিয়ার আইনসভা এখনো এই চুক্তি অনুমোদন করেনি?

সোমবার রাত পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে শুল্ক বৃদ্ধিকে আইনি কার্যকারিতা দিতে কোনো নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় চিয়ং ওয়াদে এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ তারা এখনো পায়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নীতিবিষয়ক পরিচালক কিম ইয়ং-বম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক আহ্বান করবেন।

এ ছাড়া বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করে। ওই চুক্তির আওতায় ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামাতে সম্মত হন।

অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি রফতানির ওপরও ১৫ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখতে সম্মত হন।

চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ও জাহাজ নির্মাণসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়।

তবে, প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রণীত সংশ্লিষ্ট একটি বিল গত নভেম্বর থেকে এখনো জাতীয় পরিষদে ঝুলে রয়েছে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে রফতানিনির্ভর এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়েছে।

২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি মাত্র ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, যা আগের প্রান্তিকে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের পর আসে। এটি ২০২০ সালের পর দেশটির সবচেয়ে দুর্বল অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স, যখন কোভিড-১৯ মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা ওইসিডি গড় ৩০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি ও যন্ত্রপাতির চাহিদা কমলেও, চীনের পর যুক্তরাষ্ট্রই দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানির পরিমাণ ছিল ১২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রফতানির প্রায় ১৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এই রফতানি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: