• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

মাদুরোকে অপহরণে গোপন অস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি!

প্রকাশিত: ১১:২১, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:২৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মাদুরোকে অপহরণে গোপন অস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি!

‘ডিসকম্বোবুলেটর’ সামরিক বিশ্লেষকদের দুনিয়ায় এই শব্দটিই এখন সবচেয়ে আলোচিত। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযানে রহস্যময়, গোপন এই অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে মার্কিন বাহিনী। আর কেউ নয়, স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই জানিয়েছেন এমন চাঞ্চল্যকর কথা। ফলে এটি আর গুজবের পর্যায়ে নেই। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডিসকম্বোবুলেটর নামের ওই অস্ত্র শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জামগুলো সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল, যার ফলে অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। তবে ডিসকম্বোবুলেটর ঠিক কী ধরনের অস্ত্র, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার এখতিয়ার তার নেই। তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তবে ট্রাম্পের দাবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেনি মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভবত বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সম্মিলিত ব্যবহারকেই ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরছেন। ওই কর্মকর্তার দাবি, আলাদা করে ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র মূলত সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তোলে। পাশাপাশি মাঠে থাকা সেনাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে শব্দতরঙ্গভিত্তিক বিদ্যমান সনিক প্রযুক্তিও কাজে লাগানো হয়।

সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী বহু বছর ধরেই ‘অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম-এডিএস নামের একটি বিশেষ তাপ বিকিরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। এটি প্রাণঘাতী নয় বলে দাবি করা হয়। এই অস্ত্র বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি ছড়িয়ে দেয়, যা মানুষের ত্বকে তীব্র গরম অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। তবে মাদুরোকে আটক করার অভিযানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাদুরো অপহরণ অভিযানের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। সে কারণেই এ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ওই অভিযানের দিন কয়েক পরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, সেই পোস্টে নিজেকে মাদুরোর নিরাপত্তারক্ষী দাবি করা এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ছিল। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে এমন এক ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো অনুভূত হয়। তার ভাষায়, সে সময় তার মনে হচ্ছিল, মাথা ভেতর থেকে ফেটে যাবে। নিরাপত্তা রক্ষীদের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে এবং শরীর অবশ হয়ে আসে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারির ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে। ২০টি স্থল ও সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে একযোগে বোমারু ও নজরদারি বিমানসহ ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে। ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য বিমান প্রতিরক্ষাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার কথাও উঠে এসেছে। মাদুরো যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেই ফোর্ট টিউনার সামরিক কমপ্লেক্সে অবতরণের সময় হেলিকপ্টার থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গোলাবর্ষণের শব্দও শোনা যায়।

তবে অভিযানের নির্দিষ্ট মুহূর্তগুলো, মাদুরোকে ঠিক কোথা থেকে আটক করা হয়েছে এবং ভেতরে প্রবেশের পর কীভাবে পুরো অপারেশন পরিচালিত হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সব মিলিয়েই গোপন এক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রকম গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: