• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

এপির অনুসন্ধান

প্রকাশিত: ০৮:৫২, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের রাশিয়ায় আনা হচ্ছে। এরপর তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে

রাশিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের আশ্বাসে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের মাকসুদুর রহমান। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি আসলে চলে এসেছেন ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের রাশিয়ায় আনা হচ্ছে। এরপর তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। কেউ বাধা দিলে মারধর, কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

 

এপি জানিয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম তিন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে তারা। তাদের একজন মাকসুদুর রহমান। তিনি বলেন, মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বলা হয়। পরে জানা যায়, সেগুলো ছিল সামরিক নিয়োগ চুক্তি

চুক্তিতে সই করানোর পর তাদের একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধ কৌশল, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মতো বিষয়ে প্রাথমিক যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এপিকে দেওয়া বর্ণনায় ওই তিন বাংলাদেশি জানান, তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনের কাজে বাধ্য করা হয়। রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার আগে তাদেরকে আগে যেতে হতো, রসদ বহন, আহত সেনাদের উদ্ধার এবং নিহতদের মরদেহ সরিয়ে আনার কাজ করতে হতো।

এছাড়া নিখোঁজ তিন বাংলাদেশির পরিবারও জানিয়েছে, তাদের স্বজনরা ফোনে একই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

এ বিষয়ে এপির পাঠানো প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার—কেউই কোনো মন্তব্য করেনি

এপির অনুসন্ধানে শ্রমিকদের বক্তব্যের পক্ষে কিছু নথিপত্রও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশি প্রতিবেদন ও ছবি। এসব নথিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেওয়া ভিসা, যুদ্ধে পাওয়া আঘাত এবং যুদ্ধ অংশগ্রহণের প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা নিশ্চিত নয়। তবে যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বলেছেন—ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তারা শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন

মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়—আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ভারত ও নেপালের পুরুষদেরও সামরিক নিয়োগের লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এপি জানায়, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় চুক্তিভিত্তিক কাজ শেষ করে দেশে ফেরেন মাকসুদুর রহমান। এরপর আবার কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছিলেন। সে সময় এক দালাল তাকে রাশিয়ার সামরিক ক্যাম্পে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের বিজ্ঞাপন দেখান। মাসে এক হাজার থেকে দেড় হাজার ডলার বেতন এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগের কথাও বলা হয়।

অন্যদিকে, মোহন মিয়াজী রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতে গিয়ে কঠোর পরিবেশ ও ভয়াবহ শীতে বিপর্যস্ত হন। পরে অনলাইনে কাজ খুঁজতে থাকলে একজন রুশ সেনা নিয়োগকারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে অধিকৃত শহর আভদিভকায় একটি সামরিক ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি কমান্ডারকে কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, তাকে ইলেকট্রিক্যাল কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তার অভিযোগ, আদেশ মানতে অস্বীকার করলে তাকে বেলচা দিয়ে মারধর করা হয়, হাতকড়া পরিয়ে বেসমেন্টের একটি কক্ষে আটকে নির্যাতন করা হয়

মন্তব্য করুন: