• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এপস্টেইনের কাছে ‘সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন অনিল আম্বানি! 

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এপস্টেইনের কাছে ‘সুইডিশ তরুণী’ চেয়েছিলেন অনিল আম্বানি! 

কেবল পশ্চিমা বিশ্বেই নয়, ভারতের ক্ষমতাধর ও অভিজাতদের মাঝেও ব্যাপক প্রভাব ছিল কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের। এবারে এই তালিকায় উঠে এসেছে ভারতের একসময়ের প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স গ্রুপের কর্ণধার অনিল আম্বানির নাম। প্রভাবশালী ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এপস্টেইনের নথি অনুসারে, ভারতের একসময়ের শীর্ষ ধনী আম্বানি পরিবারের সন্তান অনিল আম্বানির সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের গভীর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।

উন্মোচিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অনিল আম্বানি ও এপস্টেইনের মধ্যে ছিল নিয়মিত যোগাযোগ। এই যোগাযোগ কেবল সামাজিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাতে নারী সঙ্গী বিষয়ে ব্যক্তিগত রুচি, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং গোপন সাক্ষাতের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। 

এপস্টেইন ফাইলসের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসের একটি বার্তা বিনিময়ে এপস্টেইন আম্বানির কেমন নারী পছন্দ তা জানতে চান। কথোপকথনের একপর্যায়ে এপস্টেইন এক লম্বা, স্বর্ণকেশী, সুইডিশ তরুণী’র প্রস্তাব দেন, এবং বলেন যে, তা ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে। এর জবাবে আম্বানি দ্রুতই সম্মতি জানান এবং তার ব্যবস্থা করতে বলেন।

এই কথোপকথন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অন্য এক আলোচনায় এপস্টেইন ঠাট্টাচ্ছলে জানতে চান, আম্বানির পছন্দের তালিকায় কোনো হলিউড তারকা আছেন কি না। সেখানে স্কারলেট জোহানসনের নামও আলোচনায় আসে। কাছাকাছি সময়ে স্কারলেট জোহানসন আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন প্রযোজনা সংস্থার একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। এসব আলাপ থেকে স্পষ্ট হয়, এপস্টেইন সচেতনভাবেই ক্ষমতা, অর্থ ও সেলিব্রিটি সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে সারা বিশ্বের প্রভাবশালীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

নথিপত্র আরও জানাচ্ছে, ২০১৯ সালে অনিল আম্বানির নিউইয়র্ক সফরের সময় এপস্টেইন তাকে নিজের আপার ইস্ট সাইডের বিলাসবহুল বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। ব্যক্তিগত বৈঠক, নিভৃতে দেখা করার প্রস্তাব এবং প্যারিস ও ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় তাদের সাক্ষাতের পরিকল্পনাও আলোচনায় ছিল। আম্বানি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে এপস্টেইন নানা মাধ্যমে তথ্যও সংগ্রহ করতেন। অনিল আম্বানির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে দীপক চোপড়ার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গেও আম্বানি পরিবার ও অনিল আম্বানি বিষয়ে কথাবার্তা বলেন এপস্টেইন। 

এসব তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, এপস্টেইন ঠিক কোন উদ্দেশ্যে দুনিয়াব্যাপী ক্ষমতাধরদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ধনকুবেরদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে এপস্টাইন কীভাবে অনৈতিক প্রলোভনকে কাজে লাগাতেন অনিল আম্বানির ঘটনাটি তারই নজির। 

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একান্ত পরিসরে নারী সঙ্গ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এপস্টেইন বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত হতে পারে। এদিকে শেষ খবর পর্যন্ত এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অনিল আম্বানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: