• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলো আলোচিত যেসব গণভোট

প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলো আলোচিত যেসব গণভোট

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতাসহ একগুচ্ছ বৈপ্লবিক সংস্কারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।গণভোট মানেই কেবল পক্ষ বা বিপক্ষ নয়, এটি হলো একটি রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারনী সিদ্ধান্ত। গণভোট কে বলা হয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। বিশ্ব ইতিহাসে গণভোট কখনো একনায়কতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছে, আবার কখনো জন্ম দিয়েছে ব্রেক্সিটের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতার। গত কয়েক দশকে এমন বেশ কিছু গণভোট বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে গণভোটের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলো ব্রিটেনের ব্রেক্সিট গণভোট। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্য থাকবে কি না এটি নিয়েই এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ গণভোটে প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষে অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। ফলস্বরূপ ২০২০ সালে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসে যুক্তরাজ্য। যা বদলে দেয় বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও ইউরোপের ভবিষ্যতের গতিপথ।

কানাডার অস্তিত্ব সংকটের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ছিল কুইবেক সার্বভৌমত্ব গণভোট। ফরাসি ভাষী কুইবেকাররা মনে করত তাদের সংস্কৃতি ইংরেজ ভাষীদের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা কানাডা থেকে আলাদা হতে চায়। এ ভোটের প্রশ্নটি ছিল অত্যন্ত জটিল। ফলে সরাসরি ‘স্বাধীনতা‘ না বলে ‘সার্বভৌমত্ব ও নতুন অংশীদারিত্ব’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মাত্র ০.৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে কুইবেক কানাডার সঙ্গেই থেকে যায়।

গণভোটের মাধ্যমে একটি দেশ ভেঙে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হতে পারে। তারই প্রমাণ দক্ষিণ সুদান ও পূর্ব তিমুর। ১৯৯৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার অধীনে থাকবে নাকি স্বাধীন হবে—এই প্রশ্নে গণভোটের পর পূর্ব তিমুর স্বাধীনতা লাভ করে। আর কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের পর ২০১১ সালে গণভোটের মাধ্যমে সুদান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দক্ষিণ সুদান।

তবে একই রকম চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় স্কটল্যান্ড। স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকবে, নাকি আলাদা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এই প্রশ্নকে ঘিরেই ২০১৪ সালে আয়োজন করা হয় বহুল আলোচিত স্বাধীনতা গণভোট। এই ভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ, যা স্কটল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থেকে যায়।

একই পরিণতি হয় ক্রিমিয়ারও। ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে কি না—এই প্রশ্নকে সামনে রেখে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের এই অঞ্চলটিতে আয়োজন করা হয় গণভোটের। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, প্রায় ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেন। গণভোটের ফলের ভিত্তিতে ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ হিসেবে যুক্ত হয়। 

বিশ্বের ইতিহাসে গণভোট অনেক সময় বড় কোনো পরিবর্তনের জাদুকরী অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে, আবার কখনো জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কের। ফলে সাধারণ মানুষের রায়ই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে। 

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: