মার্টিন লুথার কিংয়ের ঘনিষ্ট সহযোগী জেসি জ্যাকসন আর নেই
মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রখ্যাত নেতা জেসি জ্যাকসন ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, “গভীর শোকের সঙ্গে আমরা নাগরিক অধিকার নেতা এবং রেইনবো পুশ কোয়ালিশন-এর প্রতিষ্ঠাতা রেভারেন্ড জেসি লুইস জ্যাকসন সিনিয়রের মৃত্যু সংবাদ জানাচ্ছি।” তারা জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।
তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিনি প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি (পিএসপি) নামে একটি বিরল স্নায়ুবিক রোগে ভুগছিলেন এবং গত বছরের শেষ দিকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে চিকিৎসকেরা জানান, ২০১৫ সালে যেটিকে পারকিনসনস রোগ হিসেবে ধরা হয়েছিল, সেটি আসলে পিএসপি।
জ্যাকসনের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে “সত্যিকারের মহীরুহ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্যাকসনের ঐতিহাসিক দুই দফা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়া তার নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। ওবামা আরও জানান, তার স্ত্রী মিশেল কিশোরী বয়সে জ্যাকসন পরিবারের বাড়িতে বসেই রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
জ্যাকসন তার স্ত্রী জ্যাকলিন এবং ৬ সন্তান- সানটিটা, জেসি জুনিয়র, জনাথন, ইউসুফ, জ্যাকলিন ও অ্যাশলিকে রেখে গেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারের প্রতি তার অটল অঙ্গীকার বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও মর্যাদার আন্দোলনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে লাখো মানুষকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করা- সব ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

জ্যাকসন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথান কিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি কিংয়ের নেতৃত্বাধীন সাউদার্ন কৃশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্স -এর অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৮ সালে টেনেসির মেমফিসে কিং হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪১ সালে সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে জন্ম নেওয়া জ্যাকসন অল্প বয়সেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। কর্মজীবনে তিনি দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থেকে একটি বিস্তৃত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন লাভের লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগ থেকেই আমি তাকে চিনতাম। তিনি ছিলেন ভালো মানুষ, ব্যক্তিত্বময় এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসায় ভরপুর।”
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে তারা জ্যাকসনের বন্ধু ছিলেন। তাদের ভাষায়, “রেভারেন্ড জ্যাকসন মানবিক মর্যাদার পক্ষে নিরন্তর সোচ্চার ছিলেন এবং অসংখ্য মানুষের জীবনে উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।”
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস তাকে “বঞ্চিত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র Zohran Mamdani বলেন, “আমেরিকাকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য করার সংগ্রামে তিনি কখনও থামেননি।”
কিংয়ের কন্যা বার্নিস কিং বলেন, জ্যাকসন তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দরিদ্র, প্রান্তিক ও সমাজের উপেক্ষিত মানুষের উন্নয়নে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: