ইরানে যে কোনো সময় বড় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র (ভিডিও)
ইরানের ওপর যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অপারেশন কয়েক দিন নয়, বরং চলবে কয়েক সপ্তাহ ধরে। সীমিত আক্রমণ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য এবার সর্বাত্মক বিধ্বংসী অভিযান।
১৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের হামলা হবে অনেক বড়। যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলবে। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছিল, ইরানের হামলা এমন হবে না। এটি হবে ব্যাপক ও বিস্তৃত।
এনিয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করেছেন। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার ব্যাপারে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ, হোয়াইট হাউজ বিশ্লেষণ করছে যে যদি হামলা চালানো হয় তাহলে ইরান এর প্রতিক্রিয়ায় কি ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে কি পরণতি বয়ে আনবে সেটিও তারা ভাবছে।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ৩ দিনের মধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে কিছু সেনা সদস্যকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিবে। তাদের প্রধানত ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সিরিয়া থেকে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্ভাব্য হামলার মুখে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে ইরানও। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ ঘাদেরি বলেন, সীমিত পরিসরে হামলা হলেও সেটি সর্বাত্নক যুদ্ধে দিকে নিয়ে যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ''ইরানের প্রস্তুতি সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, সাইবার এবং গোয়েন্দা বিভাগ—সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত। তাই পরিস্থিতি এমন নয় যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি হামলা চালিয়েই বলবেন, 'কাজ শেষ'। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও গভীর সংকটে জড়িয়ে পড়বে।"
তবে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জোর দিচ্ছেন অনেকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছে দখলদার ইসরাইল। সংকেত পেলেই ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করবে তারা। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য দেশের হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। যুদ্ধের আগে ২০১৪ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি জোরদার করে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল।
ইরানে সম্ভাব্য এই হামলা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সীমাতেই আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এটি একটি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিভি/এমএফআর



মন্তব্য করুন: