• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সহায়তা চাওয়ায় আইনি জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশীয় মিত্ররা

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৫:৪৬, ১৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মধ্যপ্রাচ্যে সহায়তা চাওয়ায় আইনি জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশীয় মিত্ররা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের কাছে সহায়তা চাওয়ায় পূর্ব এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া আইনি ও কৌশলগত দোটানায় পড়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত দিন দিন তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

তবে, পরে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, ন্যাটোসহ মিত্রদের সহায়তা এখন আর প্রয়োজন নেই। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক চাপ পুরোপুরি কমেনি। ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প আবারও এ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন।

জাপান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; দেশটির আমদানি করা তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। এ প্রেক্ষাপটে টোকিও ইতোমধ্যে কৌশলগত তেল মজুদ থেকে সরবরাহ শুরু করেছে। তবে দেশটির শান্তিবাদী সংবিধান অনুযায়ী বিদেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েনে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে সহায়ক ভূমিকা; যেমন মাইন অপসারণ, জ্বালানি সরবরাহ বা নজরদারি নিতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরতা; দুই দিকই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে সিউলকে। ইতোমধ্যে দেশটি জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বাড়তি উদ্বেগ হলো উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকি। যুক্তরাষ্ট্র যদি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করে, তাহলে তা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানাতে চাইলেও সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার আগে আইনি সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি; সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত