• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘অক্ষত’, তবে ‘দুর্বল’: তুলসি গ্যাবার্ড

প্রকাশিত: ১৬:১৭, ১৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৬:১৮, ১৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘অক্ষত’, তবে ‘দুর্বল’: তুলসি গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসি গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে, তবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৯ মার্চ) কংগ্রেসে বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে আয়োজিত এক শুনানিতে গ্যাবার্ডসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রথম প্রকাশ্য ব্রিফিং। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্যাবার্ড বলেন, “গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে আছে, তবে নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলার কারণে তা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অস্থিরতার বিষয়টি আগে থেকেই অনুমান করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ গ্যাবার্ডকে বারবার জিজ্ঞাসা করেন, ইরানকে তিনি তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, “কোনটি তাৎক্ষণিক হুমকি, এটি নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের।”

ইরানে হামলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছিল বলেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি” ছিল না।

অন্যদিকে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ বলেন, “ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্থায়ী হুমকি এবং এই মুহূর্তেও তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল।”

গ্যাবার্ড জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা “বেশিরভাগই ধ্বংস” হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী এই অভিযানে দেশটির পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে এবং এখনো পারমাণবিক বাধ্যবাধকতা মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

তবে শুনানিতে গ্যাবার্ড তার লিখিত বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করেননি, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার জন্য কিছু অংশ বাদ দিতে হয়েছে। জবাবে সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার মন্তব্য করেন, বাদ দেওয়া অংশটি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। র‌্যাটক্লিফ জানান, পেন্টাগন আগেই আশঙ্কা করেছিল যে ইরান এ অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনাসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সামরিকভাবে দুর্বল হলেও এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে রয়ে গেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত