• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে যেসব দেশের জাহাজ, জানালো ইরান  

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ২২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে যেসব দেশের জাহাজ, জানালো ইরান  

ইরান জানিয়েছে, বিদেশি জাহাজগুলো এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রে ইরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।  

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

যুক্তরাজ্যে ইরানের দূত হিসেবে দায়িত্বরত মুসাভি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি ‘ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অধিকারের’ প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। তেহরানের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে চলমান ভয়াবহ জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলী মুসাভি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষায় ইরান আইএমও এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। 

পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে দায়ী করেন। মুসাভির মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডই এই অঞ্চলের নৌ-চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং ইরান কেবল তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে শত শত তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই শর্তসাপেক্ষ অনুমতির প্রস্তাবটি মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইরান এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছে, তারা বিশ্ব বাণিজ্য অচল করতে চায় না, বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তবে ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ এখন ইরানের এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, কারণ বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় হরমুজ প্রণালি সচল করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। 

তেহরান দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে জাহাজগুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এখন দেখার বিষয় হলো, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইরানের এই শর্ত মেনে নিয়ে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পরিচালনার ঝুঁকি নেয় কি না। আপাতত এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা।

সূত্র: আল জাজিরা

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: