১০ ঘণ্টার কম সময়ে ৭ দফায় ইসরাইলে হামলার দাবি ইরানের
ইরান ১০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরাইলে ৭ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গত মধ্যরাত থেকে তেহরান এ হামলা শুরু করে। ইসরাইল জানিয়েছে, ৭ দফার মধ্যে সর্বশেষ দফায় ডিমোনা শহরে হামলা চালানো হয়। হামলা হয়েছে তেল আবিবেও। সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে হামলার পর দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে উদ্ধারকর্মী পাঠায়। তেল আবিবে হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, আগুন এবং কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলও ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত রাতে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ইসরাইল।
বর্তমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।
বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে মানবিক সংকটও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: