ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে যে সুবিধা পেতে পারে ইরান
২৬তম দিনে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ভেবেছিল দ্রুতই দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটবে।
তবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা একের পর এক শীর্ষ নেতা ও কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করলেও দমে যায়নি তেহরান। বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইরান। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে তৈরি করেছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট।
বিশ্ব জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানায় বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে একের পর এক পদক্ষেপ নিলেও কার্যত কোনো সুফল না আসায় এবং নিজ দেশে জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকায় এখন অনেকটা বাধ্য হয়েই সম্মানজনক প্রস্থান খুঁজছেন তিনি। আর এই লক্ষ্যেই তেহরানের সামনে পেশ করেছেন এক ‘শান্তি প্রস্তাব’।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবে একদিকে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কঠোর শর্ত থাকলেও, অন্যদিকে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিশাল সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ইরানের ওপর আরোপিত কয়েক দশকের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চিরতরে তুলে নেওয়া। এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে স্থবির হয়ে থাকা ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনরায় সচল হওয়ার পথ খুলবে। তেহরান যদি ট্রাম্পের শর্তে রাজি হয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো অবরোধ আরোপ না করার একটি শক্তিশালী আইনি নিশ্চয়তা প্রদান করবে।
এর ফলে ইরান পুনরায় বিশ্ববাজারে তাদের জ্বালানি তেল ও গ্যাস অবাধে রপ্তানি করতে পারবে। বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা ‘সুইফট’-এ পুনরায় যুক্ত হওয়ার ফলে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানাগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
শর্ত অনুযায়ী, ইরান যদি তাদের সামরিক পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে রাজি হয়, তবে বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। বিশেষ করে বুশেহর শহরে একটি আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে ওয়াশিংটনের কারিগরি ও প্রকৌশলগত সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এক মাসব্যাপী একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে হোয়াইট হাউস বা ইরান সরকার—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: