• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশকেও গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১০:৫১, ২৮ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশকেও গ্রেফতার

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সঙ্গে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করেছে নেপাল পুলিশ। গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে অলিকে আটক করা হয়। পরে একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও হেফাজতে নেওয়া হয়। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ গ্রহণের মাত্র একদিন পরই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।

কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

গ্রেফতারের পর নেপালের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, এটি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সূচনা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ নতুন পথে এগিয়ে যাবে।

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ১৯ জন তরুণসহ মোট ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে তৎকালীন অলির সরকারের পতন ঘটে।

পরবর্তীতে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ওই সহিংসতার ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করেন। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বা তা বন্ধে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল।

এই গাফিলতির দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং তৎকালীন পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দায়ীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত